শুধু পেঁয়াজ নয় সবজির বাজারও চড়া

সম্প্রতি বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত কৃষি পণ্যের নাম হচ্ছে পেঁয়াজ। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার একদিন পরই বাংলাদেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে কেনা পেঁয়াজ কিনতে হয় ২৫০-২৮০ টাকা কেজিতে। নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সকলের জীবনই পেঁয়াজের ঝাঁজে হয়েছে নাজেহাল। পেঁয়াজের দাম রেকর্ড ছোঁয়ার পরে এ নিয়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে যেমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তেমনি তার প্রভাব পড়ে সামাজিক মাধ্যমেও। সেখানে অনেকেই এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি রসিকতাও করতে দেখা গেছে। কিন্তু শুধু পেঁয়াজ নয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি পণ্য বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। বরং নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে চলেছেন বিক্রেতারা। একই অবস্থা শাক ও ডিমের বাজারে। চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা। শীতকালীন সবজির দামও অনেক বেশি। অথচ সব কিছুরই মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে।

পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি ওজনের পাইজার ১৬শ টাকা, বেতি ১ হাজার ৭৫০ টাকা, সিদ্ধ জিরাশাইল ২৩শ টাকা, দেশি কাটারী ২ হাজার ৪৫০ টাকা, নুরজাহান ১ হাজার ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ২৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা মিনিকেট আতপ ৯২০ টাকা, নাজিরশাইল ১ হাজার ২৫০ টাকা, নতুন চাল ১ হাজার ২০ টাকা, কাটারি সিদ্ধ ১ হাজার ৩শ টাকা, নতুন কাটারী ১ হাজার ২০ টাকা, নুরজাহান সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। ট্রাক সংকট, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও বিরূপ আবহাওয়ার অজুহাতে পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবাসায়ীরা।

খুচরা বাজারে চিনিগুড়া চাল প্রতিকেজি ৯৫-১শ টাকা, গোবিন্দভোগ ৮০ টাকা, দেশি নাজিরশাইল ৬০ টাকা, ইন্ডিয়ান নাজিরশাইল ৬৫ টাকা, পাইজার ৪৫ টাকা, জিরাশাইল ৪৮ টাকা, নুরজাহান সিদ্ধ ৩৭ টাকা, বালাম সিদ্ধ ২৫ টাকা, ১ নম্বর কাটারি ৬৫ টাকা, দেশি মিনিকেট ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারও চড়া।এদিকে কাঁচাবাজারে শীতকালীন প্রচুর সবজি এলেও দাম কমছে না। প্রতিকেজি ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা, শিম ৭০ টাকা, মূলা ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকায়, আলু ২৫ টাকা, তিতকরলা ৬০-৭০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে অপরিবর্তিত আছে মাছ-মাংসের দাম। ব্রয়লার মুরগি ১১০-১২০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৩০- ২৪০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৪০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাড়ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬শ-৭শ টাকা, হাড়সহ ৫৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ৭শ-৭৫০ টাকা।

মাছের মধ্যে পুকুরের চিংড়ি ৪শ টাকা, চাষের চিংড়ি ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, লইট্যা ৮০-১শ টাকা, রূপচাঁদা ৬শ টাকা, কৈ ৩শ টাকা, কাতাল ৩৩০ টাকা, লাল কোরাল ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আছে ডিমওয়ালা ইলিশও।

Comments

comments