বোরকা পরেই সাংবাদিক হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছেন সাবিহা ও লতিফা

মধ্যবিত্ত পরিবারে মেয়ে সাবিহা শেখ। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা। ছোটো বেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল সাংবাদিক হবেন। সেই স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানের গোমাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু ক্লাস করতে গিয়ে তার মনে উদয় হয়েছে নানা প্রশ্নের।

অধ্যাপকরা বলে ছিলেন, ‘বোরকা পরা মেয়েরা ভালো সাংবাদিকা হতে পারে না, তুমি বোরকা পরে কিভাবে সাংবাদিকতা করবে? পশ্চিমারা বোরকাকে ঠিকভাবে মেনে নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে তোমাকে মানুষের কথা শুনতে হবে।’

এমন প্রশ্নের মুখে সাবিহা কোনো দিন পড়েননি। আবক হলেও সেই সময় সাহসিকতার সথে উত্তর দিয়ে ছিলেন তিনি। বলেছিলে, মুখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শুধু একজন ভালো সাংবাদিকই হবো না, বোরকা পরা মেয়েদের রোল মডেল হবো। বোরকা পরা মেয়ে পেশাদার সাংবাদিক হওয়ার জন্য প্লাটফর্ম তৈরি করব।

যেমন কথা তেমন কাজ। আজ সত্যি সাবিহা বোরকা পারা মেয়েদের দিশারি হয়ে উঠেছেন। তিনি বন্ধু সামিরা লতিফাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বোরকা জার্নালিস্ট সংগঠন। ২০১৮ সালে তারা এই সংগঠন তৈরি করেন।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশটি আফগানিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা। সেখানে বেশিরভাগ মুসলিম নারীদের মধ্যে বোরকা নিকাব পরার চল রয়েছে।

এখানে মেয়ে শিক্ষা নিয়ে কাজ করে চলেছেন সাবিহা ও লতিফা। তারা সখান মেয়েদের কথা তুলে ধরছেন। জানা গেছে,

এই এলাকার মেয়েদের জন্য তেমন কোনো স্কুল কলেজ নেই। পরিবার থেকে দূরে গিয়ে মেয়েদের পক্ষে পড়াশুনা অনেক সময় মেয়েদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে তাকে আশা-আকাঙ্খা তুলে ধরাই সাবিহা ও লতিফার একামাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এই কাজ করতে গিয়ে এখন যথেষ্ট পরিচিত হয়ে উঠেছে সাবিহা।

সাবিহা জানিয়েছেন, আমরা বোরকা পরিধান করে কাজ করত স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমাদের মতো মেয়েদের জন্য সাংবাদিকতায় জয়গা তৈরি করতে চাই। যেখানে মুসলিম মহিলারা কোনো সমস্যা ছাড়া কাজ করতে পারবেন। বোরকা বা নিকাব কোন দিন কোনো পেশায় আসার জন্য বাধা হতে পারে না।

গোমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ওয়াসিম আকবর শেখ বিশ্বাস বলেন, সরকারের সহযোগিতা না পেলে তারা এই জাতীয় কাজ করে বেশি দূর এগানো যায় না। তাই সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

লতিফা বলেন, আমাদের বোরকা জার্নালিস্ট নামের যে প্রকল্পটি মুসলিম মেয়ের জন্য চালু করেছি, তা প্রসারিত করতে আরো বেশি মহিলারা এগিয়ে আসার প্রয়োজন। পাশাপাশি সংগঠন চালাতে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। সরকার সাহায্য করলে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।

সাবিহা বলেন, এ কাজে নামি আমর মা আমাকে সমর্থন করেন। কন্তু আমাকে এখন মানুষ সম্মান করেন। আমি চাই জার্নালিজমেও ইসলামের আদর্শ মেনে চলুক মুসলিম নারীরা।
সূত্র : পূবের কলম

Comments

comments