বাঁশে ঝুলিয়ে যুবককে নির্যাতন, ধরা পড়লেন সেই মেম্বার

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিচারের নামে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনাবাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম ওরফে ফকির মস্তান উপজেলার চারিগ্রামের মৃত মহিবুর রহমানের ছেলে।

এর আগে সকাল থেকে তাকে আটক করতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও জকিগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। এরই মধ্যে ইউপি সদস্যকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার কারণে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের আরও তিন ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়। বুধবার (২০ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালামের স্ত্রীকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ইউপি সদস্য আব্দুস সালামকে আটক করা হয়েছে। এর আগে আরও তিন ইউপি সদস্য ও আব্দুস সালামের স্ত্রীকে আটক করা হয়। এ নিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হলো।

জকিগঞ্জ উপজেলার ৩নং কাজলসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম একই ইউনিয়নের বড়বন্দ গ্রামের মৃত সফর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিনকে বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন করেন। ওই যুবককে নির্যাতনের ভিডিওটি বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে সর্বত্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ইউপি সদস্য আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বমহলে দাবি ওঠে।

২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, টুপি মাথায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ৩৪-৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। বাড়ির উঠানে গোল হয়ে এ দৃশ্য দেখছেন বেশ কয়েকজন। নির্যাতনের শিকার ওই যুবক চিৎকার করে কাঁদছেন আর বলছেন ভাই ছেড়ে দেন আর মাইরেন না আমি মরে যাব। কিন্তু নির্যাতনকারী থামছেন না।

উপজেলার বড়বন্দ গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য এবাদুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির উঠানে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে বেধড়ক পেটান ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম।

স্থানীয়রা জানান, বিচারের নামে অমানুষিক নির্যাতন, নারী কেলেঙ্কারি ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসেন ইউপি সদস্য সালাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা না বলায় এসব কাজ করে যাচ্ছেন।

গত ১০ নভেম্বর উপজেলার আটগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বুতুলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় চলে আসেন ইউপি সদস্য সালাম। আব্দুল মান্নান বুতুলকে ইউপি সদস্য সালাম বাহিনী বেধড়ক মারধর করে বিষপান করিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায় বলে অভিযোগ করেন বুতুলের চাচাতো ভাই শাকিল আহমদ।

গত ১৪ নভেম্বর সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর এক লিখিত অভিযোগে শাকিল আহমদ বলেন, ‘চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে আমরা কান্না করলে সালাম মেম্বার বলেন, যদি কান্নাকাটি করো তাহলে মার্ডার মামলায় ঢুকিয়ে দেব। কাজেই চুপ থাকো। পরদিন সালাম মেম্বারসহ চার-পাঁচজন আব্দুল মান্নান বুতুলকে রাতের আঁধারে দাফন করেন। এ ব্যাপারে মুখ খুললে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন সালাম মেম্বার। প্রাণ রক্ষার্থে পুলিশ সুপারের আশ্রয় চাই আমি।’

জকিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. আব্দুন নাসের বলেন, যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়। সালাম মেম্বার ও তার স্ত্রীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

Comments

comments