৩০টি উত্তম কাজ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছেন-

প্রতিটি ভালো কাজই সাদাকা। (বুখারি ও মুসলিম)

আমরা ভালো কাজ করার সময় পাই না। যদিও আমাদের হৃদয়-মন ভালো কাজ করতে ব্যাকুল হয়ে থাকে। আমরা এখন এমন ৩০টি ভালো কাজের কথা বলব, যে কাজগুলো করতে ৫ মিনিট অথবা তার চেয়েও কম সময় লাগবে। এই কাজগুলো আমাদের দ্বীনি বিশ্বাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

০১. যদি কেউ আপনার থেকে ঋণ নিয়ে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেই ঋণ ফেরত না দিতে পারে, তাহলে নিজ উদ্যোগে সময় বাড়ানোর জন্য তাদের কল করুন বা ই-মেইল করুন। এমন সময়ে অনেকেই ফোন রিসিভ করেন না লজ্জায় অথবা অপারগতায়। খুব ভালো হয়, যদি তাঁর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে অথবা হোয়াটস অ্যাপে অথবা ই-মেইলে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিয়ে একটা টেক্সট করেন। আর সুযোগ থাকলে গ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে মুক্ত করে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

কেউ যদি চায় আল্লাহ তাঁকে কিয়ামতের কঠিন অবস্থাতে হিফাজত করুক, সে যেন অর্থ সংকটে ভোগা ঋণ গ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দেয় অথবা ঋণ মওকুফ করে দেয়। (মুসলিম)

০২. কোনো একজন শিশুকে কুরআনের একটা ছোট্ট আয়াত হলেও শিখিয়ে দিন। নবিজি বলেছেন—

তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়। (বুখারি)

০৩. ভক্ষণযোগ্য কিছুর চারা রোপণ করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন—

যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষরোপণ করে অথবা কোনো শস্য উত্পাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা উত্পাদনকারীর জন্য সাদাকা (দান) স্বরূপ গণ্য হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

০৪. অদ্ভুত পরিস্থিতিতে এমন কিছু বলুন, যা বিবাদমান দুজন মানুষের মধ্যে শান্তি এনে দেবে। এটিও সাদাকা হিসেবে বিবেচিত হবে। (বুখারি ও মুসলিম— এ বর্ণিত হাদিসের অংশ)

০৫. কারও গ্লাসে পানি ঢেলে দিন অথবা কাউকে পানি ভর্তি গ্লাস এগিয়ে দিন। এটাও সাদাকা হিসেবে বিবেচিত হবে।

০৬. আপনার বাসায় যখন কোনো ডেলিভারিম্যান কোনো কিছু পৌঁছে দিতে আসে, তখন গ্রীষ্মকাল হলে এক গ্লাস লেবুর ঠান্ডা শরবত পান করতে দিন, আর শীতকাল হলে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করতে দিন।

০৭. কোনো একজন ব্যক্তি বাজার-সদাই করেছেন বেশ। তিনি এসব বাজার-সদাই তাঁর গাড়ি/রিক্সায়/সিএনজিতে তুলতে পারছেন না। সুযোগ থাকলে একটু সহায়তা করুন অথবা উঁচু কোথাও তাদের গাড়ি আটকে গেলে একটু ঠেলে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

কোনো ব্যক্তিকে সাওয়ারিতে উঠানো বা তার সামানা বহনে সহযোগিতা করাও একটি সাদাকা। (বুখারি ও মুসলিম)

০৮. মানুষের সামনে দয়া, বিনয় ও উত্তম ভাষায় কথা বলুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ভালো কথা সদকাস্বরূপ। (বুখারি ও মুসলিম)

০৯. রাস্তায় বর্জ্য কিছু খুঁজে পেলে নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলুন অথবা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনুন। চাইলেই অন্তত একটা ফোনকলের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তথ্য পৌঁছাতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলার সময় রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখতে পেয়ে তা সরিয়ে ফেলল। আল্লাহ তায়ালা তার এ কাজ সাদরে কবুল করে তার গুনাহ মাফ করে দিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)

১০. পিতা-মাতা, স্ত্রী, সন্তান অথবা বন্ধুকে একটা টেক্সট করে বলুন, আপনি তাদের হৃদয় গহিন থেকেই ভালোবাসেন।

১১. উপহার দিন। ছোট্ট কিছু হলেও উপহার দেওয়ার অভ্যাস করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

তোমরা হাদিয়া বা উপহার দাও, তোমাদের মধ্যে প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে। (তিরমিজি)

১২. কোনো একজন ওয়েইটার, নার্স, মেকানিক অথবা শিক্ষকের নিকট থেকে আপনি দারুণ সার্ভিস পেয়েছেন। এই ভালো সার্ভিসের কথাটা কল করে অথবা ই-মেইল করে তাদের উপরস্ত বস অথবা সুপারভাইজারকে জানিয়ে দিন।

১৩. কোনো একটা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ভালো সেবা পেয়েছেন। আপনি তাদের ব্যাপারে অনলাইনে একটা পজেটিভ রিভিউ লিখে দিন।

১৪. দুজন কথা বলছেন। কেউ কথা বলা অবস্থায় তাকে থামিয়ে দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ শুরু করবেন না।

১৫. অসুস্থ/প্রবীণ/বন্ধুকে দেখতে যাওয়ার সময়সূচি ঠিক করে নিতে একটা কল অথবা ই-মেইল করুন।

১৬. বয়স্ক ও অসুস্থ প্রতিবেশীর বাড়ির ময়লা-আবর্জনার ব্যাগ অপসারণে সহযোগিতা করতে পারেন।

১৭. রাস্তায় আপনার বাহনে সুযোগ থাকলে অন্য কাউকে ট্রিপ দিন।

১৮. আগন্তুকের জন্য দরজা খুলে ধরে রাখুন।

১৯.নিজের চেয়ার অন্যের জন্য ছেড়ে দিন; বিশেষত প্রবীণদের জন্য। নবিজি বলেছেন—

সে আমার দলভূক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটোদের প্রতি দয়া করে না এবং আমাদের বড়োদের সম্মান করতে জানে না। (আবু দাউদ, তিরমিজি)

২০. শিশুদের কেউ বাসা-বাড়িতে এসে দুষ্টুমির ছলে কোনোকিছু ভেঙে ফেললে অথবা নষ্ট করলে, হাসিমুখে মেনে নিন। ছোটোবেলায় আপনিও এমন অনেক দুষ্টুমি করেছেন।

২১. সুযোগ থাকলে হাতে লেখা চিঠি ও শুভেচ্ছা কার্ড প্রিয়জনকে পাঠিয়ে দিন।

২২. বসতভিটে হারা দরিদ্র মানুষের দিকে তাকিয়ে একটু স্মিত হেসে বলুন— ‘আপনার দিনগুলো ভালো কাটুক।’ এতিম কারও সাথে সাক্ষাৎ হলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিন। ভিক্ষুকদের সাথে নম্র আচরণ করুন।

২৩. পার্কিংয়ে অন্য ড্রাইভারকেও একটু স্পেস দিন, যেন তিনিও পার্কিং করতে পারেন।

২৪. কেউ একজন খুব টেনশন করছেন, মন খারাপ। আপনি একটা মজার কৌতুক বলে তাঁর মনটা ভালো করে দিন, টেনশন কমিয়ে মুখে হাসি এনে দিন।

২৫. একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না। আপনি আরশে আজিমের মালিকের কাছে দুহাত তুলে তাঁর জন্য পজেটিভ দুআ করুন। ঠিক নিজে বিপদে পড়লে যেভাবে দুআ করতেন সেভাবে।

২৬. একজন মানুষকে দেখলেই সালাম দিন। হোক তিনি পরিচিত অথবা অপরিচিত।

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, ‘সর্বোত্তম কাজ কী?’ তিনি বললেন, ‘(ক্ষুধার্তকে) অন্নদান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে (ব্যাপকভাবে) সালাম পেশ করবে।’(বুখারি-মুসলিম)

২৭. কর্মব্যস্ত দিনশেষে আপনি যখন ঘরে ফিরছেন, দরজা খুললেই সালাম দিন। নবিজি বলেছেন-

যখন তুমি তোমার বাড়িতে প্রবেশ করবেন, তখন তোমার পরিবারকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা জানাবে। এটি তোমাদের এবং তোমাদের পরিবারের জন্য ‍আল্লাহর দয়া ও রহমতের উত্স হবে। (তিরমিজি)।

২৮. কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি অনলাইনে ফান্ডরাইজ করলে সুযোগ থাকলে ডোনেট করুন।

২৯. প্রাজ্ঞ ও ভদ্রোচিত উপদেশ দিন। নবিজি বলেছেন-

‘দ্বীন হলো উপদেশ।’

৩০. মা-বাবা অথবা স্ত্রীর দেওয়া ছোটোখাটো কাজ ঠিকঠাক আঞ্জাম দিন। যেমন- ঘরের ময়লা ফেলা, আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং দাওয়াত দেওয়ার জন্য মোবাইল করা, ঔষধসহ কোনো কেনাকাটা ইত্যাদি।

সূত্র: চিন্তাধারা ডট কম [সামানা সিদ্দিকার লেখা ইংরেজি আর্টিকেলের বাংলা অনুবাদ করেছেন নূর মোহাম্মাদ আবু তাহের।]

Comments

comments