খাদ্য সংকটে খুবির শিক্ষার্থীরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অসিত কুমার দত্ত। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করেন তিনি। টিউশনি শেষে কখনও কখনও হলে ফিরতে বেশি রাত হয় তার। ততক্ষণে বন্ধ হয়ে যায় হলের ডাইনিং। তখন একমাত্র ভরসা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খাবারের দোকান বা রেস্টুরেন্ট। তবে সম্প্রতি সেখানেও খাবার মিলছে না। তাই বাধ্য হয়েই না খেয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলাম নগর রোডের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই অভিযানে ভাঙা পড়েছে রেস্টুরেন্ট, খাবার হোটেল, মুদি দোকান, স্টেশনারিসহ ৭০টিরও অধিক স্থাপনা। আর এতেই খাবার সংকটে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অসিত অভিযোগ করেন, একে তো খাবার পাওয়া যায় না তার ওপর ক্যান্টিনে খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। মুরগি ও এক প্লেট ভাত খেতে ৪০ টাকা লেগে যায়। মাছের দামও বাড়ানো হয়েছে। ২৫ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। আবার ডাল এতদিন ফ্রি ছিল, সবজি দিয়ে খেলে তার দাম রাখা হচ্ছে। সবজির দাম ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. শামীম আক্তার জানান, পিক আওয়ারে এমনিতেই শিক্ষার্থীদের চাপ বেশি থাকে। তাই খাবার পেতে সময় লাগে। তাছাড়া কয়েক পদের খাবার থাকায় চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরে মুখোরোচক আইটেমগুলো শেষ হয়ে যায়। চলমান সংকট নিরসনে আমরা সবর্দা সচেষ্ট রয়েছি।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের শিক্ষার্থী রুকাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় হলে খাবার যথেষ্ট নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাবারের জন্য বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। খাবারের মানও যথাযথ নয়। তাছাড়া এখন আমাদের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। ফটোকপি ও স্টেশনারির দোকানগুলো ভেঙে ফেলায় আমরা প্রতিদিন নানাবিধ সমস্যায় পড়ছি।

খান জাহান আলী হলের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ তন্ময় জানান, হল রোডের সব দোকান ভেঙে ফেলায় চাপ এসে পড়েছে হলের ডাইনিং এবং ক্যান্টিনে। বাইরের মেসে থাকা অনেক শিক্ষার্থী এখন খাবারের জন্য হলে ভিড় করছে।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে খুবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. শরীফ হাসান লিমন বলেন, সব হলগুলোতে আগের চেয়ে বেশি করে খাবার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাফেটেরিয়াও রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেতৃত্বে ইসলাম নগর রোডে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুনরুদ্ধার করা জায়গার ওপর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এ রাস্তা প্রশস্তকরণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

Comments

comments