শহীদ নূর হোসেনকে ‘মাদকাসক্ত’ বললেন রাঙ্গা

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘মাদকাসক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। পাশাপাশি, ১৯৮৭ সালের সেই উত্তাল দিনে নূর হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগই ছিল বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

রবিবার ঢাকার বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাঙ্গা আরও বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে মাদকাসক্ত নূর হোসেনকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে’।

রাঙ্গা আরও বলেন, ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, এখন আর সেই গণতন্ত্র নেই। দেশের গণতন্ত্র এখন নির্বাসনে।

উল্লেখ্য, শহীদ নূর হোসেনের আত্মদানের দিন রবিবার যখন তাকে স্মরণ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, সেদিনই জাতীয় পার্টির নেতা রাঙ্গা এই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন। ওই অনুষ্ঠান নিয়ে জাতীয় পার্টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও তার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে এরশাদের ভাই ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, নূর হোসেন ও ডা. মিলন হত্যার ইস্যু তুলে দেশের মানুষকে বারবার বিভ্রান্ত করা হয়। আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অপবাদ দেওয়া হয়। এর একটা সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।

জি এম কাদের বলেন, নূর হোসেন এবং ডা. মিলনকে কারা হত্যা করেছে, কেন হত্যা করেছে এবং কীভাবে হত্যা করেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদকে হটাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে ১৯৮৭ সালে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছিল; সেদিন পুলিশের গুলিতে নিহত হন পরিবহন শ্রমিক নূর হোসেন।

বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক-গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে সেদিন মিছিলে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন। সেদিন তার আত্মদান এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দিয়েছিল নতুন মাত্রা। এ ঘটনার তিন বছরের মাথায় গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সাল ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন এরশাদ। জিপিওর সামনে যে স্থানটিতে নূর হোসেন মারা গিয়েছিলেন, সেই স্থানটির নাম রাখা হয় নূর হোসেন স্কয়ার।

Comments

comments