জাহাঙ্গীরনগরে ৩ হিন্দু ছাত্রকেও শিবির বলে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। হামলার সময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তিনজন হিন্দু ছাত্রকেও শিবির বলে পিটিয়েছে। সেই তিন হিন্দু ছাত্র হলো- সৌমিক বাগচি, সুদীপ্ত দে ও অমর্ত্য রায়।

নাঈমুল আলম মিশু নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্র এই তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার লেখাটি সংবাদের পাঠকেদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো:

গণজাগরণ মঞ্চের মধ্য দিয়ে আমার এক্টিভিজম শুরু। এই আধাযুগের বেশি সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনে পুলিশ আর ছাত্রলীগের মাইরের মুখোমুখি হইসি। কিন্তু অন্যান্য সময়ের চাইতে আজকে যে হামলাটা করসে সেইটা ভয়ানক আলাদা।

আজকে ছাত্রদের সাথে শিক্ষকদেরকেও বেধড়ক পিটাইসে ফারজানার গুণ্ডা বাহিনি। আবার এই গুণ্ডা বাহিনিও অভিনব। ছাত্রলীগ আক্রমণ শুরু করার পর ভিসির দালাল মাস্টাররাও একতালে মারসে আমাদেরকে। তাদের সাথে ছিলো সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। হলের ক্যান্টিন বয়রাও মারসে আজকে ছাত্রদেরকে।

সৌমিক বাগচি, সুদীপ্ত দে, অমর্ত্য রায়কে পিটানো হইসে শিবির বইলা।

কিন্তু আমি মাইর খাইসি একজনের কাছেই। তিনি ছাত্রলীগ নন, কর্মচারী-কর্মকর্তা নন, ক্যান্টিনবয়ও নন। তিনি একজন ‘শিক্ষক’। নাম তার নুহ আলম। আমার বাম পায়ের হাঁটুতে তিনি একনাগাড়ে সাত-আটটা লাথি দেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়।

 

Comments

comments