আয়োজকদের অবহেলায় কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু, দায় এড়ানোর চেষ্টা!

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর আনন্দ উৎসব ‘কিআনন্দ’ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে আয়োজকদের অবহেলায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দায় এড়ানো চেষ্টা করছেন কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ।

 শুক্রবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর আনন্দ উৎসব ‘কিআনন্দ’ অনুষ্ঠান দেখতে এসে বিদ্যুৎ স্পৃস্ট হয়। এরপর আয়োজকদের অবহেলায় মৃত্যু হয় তার। ছাত্রের নাম নাইমুল আবরার রাহাত।

এ ঘটনায় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশ্ন তুলেছেন আয়োজকদের মানবিকতা নিয়ে। তারা বলছেন, একজন ছাত্র মৃত্যু অবস্থায় রেখে কিভাবে অনুষ্ঠান পরবর্তিতে চালানো হয়। আয়োজকদের এতো অবহেলা! একটা ইভেন্ট শেষ করার জন্য এভাবে জীবন শেষ হয়ে যাবে। একজন ছাত্রের মৃত্যুর খবর আড়াল করে কিভাবে কনসার্ট অনুষ্ঠান চলতে পারে? আয়োজকদের এতো অবহেলা! একটা ইভেন্ট শেষ করার জন্য এভাবে জীবন শেষ হয়ে যাবে?

শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় বিকেল ৩ টার দিকে বিদ্যুৎ স্পৃস্ট হলে তাকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়। কিন্তু কোথায় তাকে নেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। পরে বিকেল ৫ টার দিকে জানতে পারি মহাখালীর এক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের আশেপাশে এতোগুলো হাসপাতাল থাকতে মহাখালীতে কেন? তাহলে কি অনুষ্ঠানের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় তাকে দূরে নেওয়া হলো। মানুষের জীবনের চেয়ে তাদের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বেশী?

তারা বলছেন, নাইমুল আহত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও কাউকে জানানো হয়নি। আমরা জনতে চাইলেও আমাদের কাউকে জানাতে নিষেধ করে কিশোর আলো কতৃপক্ষ।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, কিশোর আলো যতবার আমাদের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করেছে তখনই কোন সমস্যা হয়েছে। তারা বলছেন, এই নিয়ে তিনবার কিশোর আলো আমাদের কলেজে নিজেদের জন্মদিনের ইভেন্ট আয়োজন করল। প্রত্যেকবার দূর্ঘটনা না ঘটালে যেন তাদের মন ভরে না। ২০১৭ সালে তারা আমেদের মাঠ নষ্ট করেছিল, ১৮ তে ছোট ছোট গাছগুলো মেরে ফেলেছে। সেগুলো নাহয় মেনে নিতে পেরেছিলাম, কতটাই বা যাবে, আনন্দ তো করতে পেরেছি।। কিন্তু এবার? একটা ১৫ বছরের বাচ্চার জীবনের দাম কী দিয়ে পূরণ করবেন? এ দায় এড়াতে পারবেন না কখনো।

Comments

comments