বিভক্তি রায়ে এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড

মতিউর রহমান আকন্দ

৩১ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিভক্তি রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে।মানবতাবিরোধী অপরাধের কথিত অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সরকার পক্ষ জনাব আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দলীয় লোকদের সাক্ষী হিসেব উপস্থাপন করে।যারা ঘটনা দেখেছেন বলে দাবী করেছেন তাদের অবস্হা হলো এমন যে একজন ৭ কিলোমিটার দূর থেকে আরেকজন ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ঘটনা দেখেছেন।মানুষের দৃষ্টি শক্তি যতই প্রখর হোক ৭ কিলোমিটার দূরের কোন ঘটনা দেখা তার পক্ষে সম্ভব নয়।সাক্ষী যে মিথ্যা কথা বলেছেন তা এত দূরত্ব থেকে ঘটনা দেখার বর্ননা থেকেই বুঝা যায়।

একজন সাক্ষী দাবী করেছেন তিনি আজহার সাহেবের ক্লাসমেট ছিলেন।তিনি ১৯৭০ সালে কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন।আর আজহার সাহেব ১৯৬৮ সালে কারমাইকেল কলেজ ত্যাগ করেন।অতএব সাক্ষীর আজহার সাহেবের ক্লাসমেট হওয়ার দাবিটি মিথ্যা।

সুপ্রিমকার্টের আপীল বিভাগের ৪ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেন্চ একমত হয়ে এ রায় দেননি। ৩ জন একমত হলেও ১ জন বিচারপতি দ্বিমত পোষন করেছেন।যিনি মৃত্যুদন্ডের সাথে দ্বিমত পোষন করেছেন সে সম্পর্কে পূর্নাংগ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।জনাব আজহারের মৃত্যুদন্ডের রায়টি প্রশ্নবিদ্ধ-বিতর্কিত।অন্তত: একজন বিচারপতি রায়ের সাথে দ্বিমত পোষন করেছেন। সম্পূর্ন রায়টি প্রকাশ হবে, রিভিউ দায়ের হবে এরপরই মামলার চূড়ান্ত নিস্পত্তি।একদিন দুনিয়ার মানুষ এ অন্যায় রায় সম্পর্কে জানতে পারবে।

মিথ্যা সাক্ষের উপর ভিত্তি করে যে রায় দেয়া হলো তা একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়।জনাব আজহারুল ইসলাম সরকারের চরম জুলুম ও নির্যাতনের শিকার।২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে গ্রেফতার করার পর রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হয়।একজন জাতীয় নেতা হওয়ার পরও তাকে ডান্ডাবেরী পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।তার একমাত্র পুত্র সন্তানকে গ্রেফতার করে তার উপরও নির্যাতন চালানো হয়।জনাব আজহার ২০১২ সালে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করার পর সরকার আইনশৃংখলা বাহিনী দিয়ে তার বাড়ী অবরুদ্ধ করে রাখে। বাড়ীর চতু্র্দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে এক ভুতুরে পরিবেশ তৈরী করে।একজন শীর্ষনেতার বাড়ীতে সিসিটিভি বসিয়ে তাকে পর্যবেক্ষনের নামে হয়রানী নজির বিহিন ঘটনা ।তিনি দীর্ঘ ৮ বছর যাবত কারাগারে বন্দী জীবনযাপন করছেন।ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তিনি আজ সর্বোচ্চ আদালত থেকেও ন্যায় বিচার থেকে বন্চিত হলেন।

জনাব আজহার ইসলামী আন্দোলনের নেতা।তিনি রাজপথে আজীবন লড়াই করেছেন। এদেশের মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন ইসলামী ছাত্রশিবির যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করে তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি।তার স্বপ্নের সংগঠন আজ দেশ ও জাতির আশা আকাংখার প্রতীকে পরিনত হয়েছে। দ্বীনের যে মশাল তারা প্রজ্বলিত করেছেন তা কখনো নির্বাপিত হবেনা।জনাব আজহার এদেশের ইসলামী আন্দোলনের সাথে মিশে আছেন, থাকবেন। তাকে হত্যা করা সম্ভব হলেও তার আদর্শকে হত্যা করা যাবেনা । তিনি বেঁচে থাকবেন।

জনাব আজহার পূর্নাংগ লিখিত রায় পাওয়ার পর রিভিউ পিটিশন দায়ের করবেন। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে তার রিভিউ গৃহীত হবে এবং তিনি খালাস পেয়ে আবারো জনগনের নিকট ফিরে আসবেন ইনশাআল্লাহ।

Comments

comments