আবারও ইবি ছাত্রলীগ সম্পাদকের অডিও ফাঁস: টাকা দিয়ে কেনা যায় হাইকোর্টের রায়!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ফোনালাপের আরো একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে তিনি বলেন ‘হাইকোর্টের রায় টাকা দিয়ে কেনা যায় এমন অনেক লাইন আছে। আমি এসব পথ পাড়ি দিয়ে আইছি।’ ২ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের অডিওটি মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়। এর আগেও নিয়োগ বাণিজ্য ও টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়া সংক্রান্ত দুইটি ফোনালাপ ফাঁস হয় রাকিবের।

এই বক্তব্যে রাকিব হাইকোর্টকে অবমাননা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন মহল। অডিও ভাইরালের পর শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। আদালত অবমাননার প্রতিবাদে ও রাকিবের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করে শাখা ছাত্রলীগের নোতাকর্মীরা। এসময় তাকে ছাত্রলীগ থেকেও বহিষ্কারের দাবি জানায় তারা। এছাড়া বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় একই দাবিতে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘রাকিব তার কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে আদালতকে অবমাননা করেছে। আমরা তাকে আইনের আওতায় আনতে মাননীয় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একইসাথে তারা রাকিবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানায়।’

ফাঁসকৃত অডিওতে রাকিব অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ, আইন বিভাগ ও গণিত বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনে অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, ‘ফিন্যান্সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছেলে আবেদন করেছে। আইন বিভাগে একটা সার্কুলার হয়ে রয়েছে। আর গণিত বিভাগের সাইফুলের স্ত্রীর ব্যাপারাটা কনফার্ম করতে হবে।’

এসময় রাকিব বলেন, ‘সে ব্যাপারটা হবে। কিন্তু ম্যালা টাকা লাগবে। হাইকোর্টে একটা রীট করতে হবে। করে রায় কিনে আনতে হবে। হাইকোর্টের এমন এমন জায়গায় এমন এমন লাইন, আপনি যেভাবে চাবেন সেভাবে রায় দিবে। শুধু টাকা লাগবে। এসব পথ আমি পাাড়ি দিয়া আইছিতো (আসছি)। রায় টায় সব কেনা যাবে, সব কেনা যাবে।’

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি এখনো এমন কোন অডিও বা কথোপকথোন শুনিনি। এমন কোন কথাও কারো সাথে আমার হয়নি।’

উল্লেখ্য, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য ও টাকার বিনিময়ে নেতা হওয়া সংক্রান্ত দুইটি ফোনালাপ ফাঁস হয় রাকিবের। এর প্রেক্ষিতে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগের পদবঞ্ছিত বিদ্রোহী গ্রুপ। এর পরে তারা কয়েকবার ক্যাম্পাসে এসে নিজ কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন।

Comments

comments