‘পুলিশের ডরে ঘরে বইয়া থাকলে কি পেট চলব?’

‘লাইনম্যান কইছে, কয়েকদিন গ্যারেজ থাইক্যা রিকশা বাহির না করতে। রাস্তায় পাইলে পুলিশ গাড়ি সিজ করব। সে সামাল দিতে পারব না। কিন্তু ঘরে বইয়া থাকলে কি পেট চলব? রিকশা না চালাইলে কেমনে ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করমু। রোজগার না করলে পোলা মাইয়া লইয়া উপোস থাকতে অইব।’

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ কয়েকজন রিকশাচালককে লক্ষ্য করে এ কথাগুলো বলছিলেন আসলাম মিয়া নামের এক রিকশাচালক। তার রিকশার সামনে দুটো ক্র্যাচ ঝুলানো। পঙ্গু হওয়ায় তিনি একটি মোটরচালিত রিকশা চালান।

কিছুক্ষণ আগেই অন্য এক রিকশাচালক তাকে জানান, আজ নীলক্ষেত মোড় থেকে নিউমার্কেট পোস্ট অফিস ও বিজিবি ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত এলাকায় মোটরচালিত রিকশাবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আসলাম মিয়া আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আসলাম মিয়া জানান, বছর তিনেক আগে এক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। তারপর থেকে আর প্যাডেলচালিত রিকশা চালাতে পারেন না। তিনি নিজের জমানো কিছু টাকা ও ৩০ হাজার টাকা ঋণ করে মোট ৪০ হাজার টাকায় একটি মোটরচালিত পুরনো রিকশা কিনে লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকায় চালান।

থানা পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য জনৈক লাইনম্যানকে সপ্তাহে ৭০০ টাকা দেন আসলাম মিয়া। তারপরও মাঝে মাঝেই লাইনম্যান গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের না করার কথা বলেন। তিনি বলেন, নিয়মিত গাড়ি চালাতে পারলে দিনে ৬০০-৭০০ টাকা আয় রোজগার হয়। কিন্তু একদিন গাড়ি বন্ধ রাখলে তার ঘরের উনুন জ্বলে না।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসারের বাজার, বাসাভাড়ার টাকা ছাড়াও তাকে নিয়মিত ঋণের টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। তাই শত নিষেধ ও বিপদের আশঙ্কা থাকলেও তাকে রিকশা নিয়ে বের হতেই হয়।

এ প্রতিবেদকের পরিচয় শুনে তিনি বলেন, আমাদের মতো পঙ্গুদের জন্য বিশেষ অনুমতি দেয়ার ব্যবস্থা করা যায় না? পা ভালো থাকলে তো প্যাডেলচালিত রিকশাই চালাতাম।

Comments

comments