ডাক্তারকে পেটালো যুবলীগ নেতা, উল্টো নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর চেষ্টা

হাসপাতালে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নেতা ইউসুফ আলী। চিকিৎসকে নাম ডা. শাকিল হামজা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছিতের শিকার চিকিৎসক নিজে থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেও তা আমলে নেয়নি পুলিশ। উল্টো তাকে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফাঁসানোর পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডা. শাকিল নতুন করে অপদস্থ হওয়ার ভয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনাটি সিভিল সার্জন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্ণধারসহ চিকিৎসক নেতারাও জানেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় এমপির দারস্থ হয়েছেন সিভিল সার্জন নিজেই।

ডা. শাকিল বলেন,‘সোমবার দুপুরে রোগীর প্রচণ্ড চাপ ছিল। এসময় এক নারী রোগী টিকিট ছাড়াই চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। তাকে পরদিন আসতে বলায় তিনি হম্বিতম্বি করে চলে যান। এরপর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা ইউসুফ আলী এসে রোগী ও সহকর্মীদের সামনে আমাকে পেটান। এক পর্যায়ে আমি দৌড়ে বাথরুমে ঢুকলে তিনি বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। ঘটনার পর সহকর্মীদের সহায়তায় নিজেকে রক্ষা করে থানায় অভিযোগ দিলেও ওসি তা গ্রহণ করেননি। উল্টো আমাকে বকাঝকা করে থানা থেকে বের করে দেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. তাসলিমা জান্নাত বলেন, ‘ডা. শাকিলের সঙ্গে এক নারী রোগীর কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দলবল নিয়ে তাকে মারধর ও বাথরুমে আটকে রাখে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান,বিষয়টি স্থানীয় এমপিকে জানানো হয়েছে। তিনি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিএমএ-এরসিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. জহুরুল হক রাজা বলেন,চিকিৎসককে পেটানোর ঘটনাটি আপত্তিকর।

বেলকুচি থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,চিকিৎসক পরে থানায় এসে অভিযোগ দেবেন বলে চলে গেছেন। পরে আর তিনি আসেনি। তার বিরুদ্ধে এক নারী রোগী দুর্ব্যবহারের লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন,ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে দু’রকম তথ্য পেয়েছি। চিকিৎসক ঘটনার বিষয়ে এখনও কিছু আমাদের জানায়নি। লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments