অস্ট্রেলিয়ায় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণে সরকারি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এক অভিনব প্রতিবাদ করেছে দেশটির সংবাদপত্রগুলো। সোমবার প্রথম সারির সংবাদপত্রগুলো তাদের প্রথমপাতার সংবাদ কালো কালিতে মুছে দিয়ে এ প্রতিবাদ জানায়। খবর বিবিসির।

‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’, দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফিনান্সিয়াল রিভিউ, ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’সহ বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র এ প্রতিবাদে অংশ নেয়। পত্রিকাগুলো তাদের প্রথমপাতার সংবাদগুলো কালো কালিতে মুছে দেওয়ার পাশাপাশি লাল কালির একটি সিল ছাপে, যাতে লেখা ‘গোপনীয়: ছাপার জন্য নয়’।

চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) দুই সাংবাদিক আফগানিস্তানে পশ্চিমাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান বিশেষ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রচার করে। এ ছাড়া নিউজ কর্পোরেশন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদক এনিকা স্মেথার্স্ট তার রিপোর্টে সরকার জনগণের উপর নজরদারির পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেন। এতে সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

এ দুটি সংবাদকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের জুনে এবিসির অফিস এবং এনিকা স্মেথাস্টের্র বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই ব্যাপক নিন্দা জানিয়ে আসছে। তারা এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছে।

দেশটির পুলিশ ওই তিন প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের ঘোষণার দেওয়ার পর গণমাধ্যমগুলো প্রতিবাদে আরও সোচ্চার হয়। সবশেষ আজকের এই অভিনব প্রতিবাদ।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে আইনের শাসনকেও সমর্থন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী, সাংবাদিক অথবা যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণতান্ত্রিক দেশ অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অনুচ্ছেদ নেই। ফলে প্রায়ই দেশটির গণমাধ্যমকে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়।

Comments

comments