এবার ১১ দফা দাবীতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট

দেশ জুড়ে আন্দোলন, ধর্মঘট যেন থামছেই না। এবার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ মোট ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘট করছে ক্রিকেটাররা।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ মোট ১১ দফা দাবিতে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ফলে ভারত সফরও হুমকির মুখে পড়ে গেল এই আন্দোলনে।

সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহসহ দেশের প্রতিষ্ঠিত সব ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন মিরপুরে। সেখানে সবাই যে যার অবস্থান থেকে দেশের ক্রিকেটে অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। শুধু নিজেদের পাওনা নয়, ক্রিকেটাররা কথা বলেন আম্পায়ার, গ্রাউন্ডসম্যান, কোচ, ফিজিও এসব ক্ষেত্রে দেশী-বিদেশীর বেতন বৈষম্য নিয়ে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো নিয়ে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। গতকিছু দিন ধরে সেটি সংঘবদ্ধ রুপ নিতে থাকে। অবশেষে চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে গেছেন দেশের সব ক্রিকেটার। যার নেতৃত্বে সাকিব, তামিম, মুশফিকরা।

ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রথম দাবি হচ্ছে কোয়াবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী পদে যারা রয়েছেন, তাদের দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।”

তামিম ইকবাল বলেন, “বাংলাদেশ বিদেশী একটা কোচের যত টাকা বেতন পায়, আমাদের দেশের ২০ জন কোচ সে বেতন পায়। এমনও অনেক হয়েছে যে, বাংলাদেশের কোচের অধীনে দল ভালো পারফর্ম করার পরও পরের সফরে তাকে বাদ দেয়া হয়।”

টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন ক্রিকেটাররা। প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান ক্রিকেটাররা। এ সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ।

সাকিব আল হাসান বলেন, জানি যে সবাই আমাদের সাথে আছে এবং আমরা এগুলো নিয়ে দাবি তুলেছি। যতদিন পর্যন্ত আমাদের এই দাবিগুলো পূরণ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আমরা সব ধরণের ক্রিকেটের কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকতে চাচ্ছি না।

এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের দাবি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি। তিনি বলেন, “এই ধরণের বিষয় নিয়ে আমাদের সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। অবশ্যই খেলোয়াররা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বিষয়গুলো পেলে বোর্ডকে অবহিত করবো এবং বোর্ডই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।”

বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে থাকায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে এ আন্দোলনের বাইরে রাখার কথা জানিয়েছেন সাকিব। আর খুব বেশি সময় হাতে ছিল না বলে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

Comments

comments