নানকের সেই ‘কথিত’ ছেলে মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেপ্তার

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তারেকুজ্জামান রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর রাজীবের বাড়ি ভোলায়। তার বাবা তোতা মিয়া ও চাচা ইয়াসিন মিয়া মোহাম্মদপুর এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। রাজীব ছিলেন টং দোকানদার। এক সময় তিনি যুবলীগের রাজনীতি শুরু করেন। এ সময় কয়েক তরুণের সমন্বয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় মোটরসাইকেল বাহিনী গড়ে তোলেন। সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রীর আশীর্বাদে তিনি ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন পান। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বজলুর রহমানকে পরাজিত করে কাউন্সিলর হন। এরপরই দ্রুত ‘ভাগ্য বদল’ হয় রাজীবের। চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন রাজীব।

আরও জানা যায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ‘কথিত’ ছেলে রাজীব। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, খুন, কিশোর গ্যাং, মাদক ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বসুন্ধরা এলাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে ৮ নম্বর সড়কের ৪০৪ নং বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব-১। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখান থেকে রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়। সেটি ছিল তার বন্ধুর বাসা। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরুর পর গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন তিনি।

ওই বাড়িতেই রাজীবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাইজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডে ৩৩ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব-২। তবে সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। সবশেষ তার কাউন্সিলর কার্যালয়ে তল্লাশি চালান র‌্যাব সদস্যরা। অবশেষে তাকে র‌্যাব-১ এর প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গেল ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলছে। এসময়ে গডফাদারসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়ে ২০১ জনকে আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

Comments

comments