এক আবরার মরে গেলো, থেতলানো পা নিয়ে বেঁচে আছে শত আবরার

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রলীগের বুয়েটের অন্ধকার ইতিহাস ধিরে ধিরে বেরিয়ে আসছে। এ যাত্রায় শুধু আবরার মারা গেছে কিন্তু শত শত আবরার এখনও মুখ থুবড়ে, থেতলানো পা নিয়ে বেঁচে আছে।

এই নৃশংস, বর্বরোচিত ও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যখন সারাদেশ ক্ষোভে ফুসছে তখন কলম ধরেছেন বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা। নিজ বর্ননা করেছেন তার ওপর ঘটে যাওয়া ছাত্রলীগের নির্মম আচরনের কথা।

সাবেক বুয়েট ছাত্র এনামুল হক ইমন। তিনি তার শরীরের ক্ষত স্থানের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, এগুলো আমারই ছবি, ছয় বছর আগের, আবরার মারা গেছে, আমি ওই দফায় বেঁচে ফিরেছি।

তিনি লিখেছেন,সেদিন সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার(‘০৯) ও কাজল(‘০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে!

বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১১ টা ৩০!! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে ‘১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে।

এর কতদিন আগে কোনো একটা নামাজ মিস দিয়েছি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা আসর আর মাগরিব নামাজ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেয়নি।

তিনি আরও একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমার জানামতেই এমন প্রায় ত্রিশ জনেরও বেশী ঘটনা আছে।

এক ভাই ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ২ বছর স্টাডি গ্যাপ দিয়ে দিয়ে একদিন বুয়েটে আসলেন। হলে তেমন কাউকে চেনেন না। এক সপ্তাহের মধ্যেই ছাত্রলীগ তাঁকে মেরে ডি এম সি এর এমার্জেন্সীতে পাঠালো।

একজনকে সাপের মতো পিটিয়েছে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে প্রকাশ্যে, সেই ভাই এক মাস ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতে পারতেন না। ৬ মাস পরেও ঠিকমতো হাঁটতে পারেননি।

এক জুনিয়র ছেলে, সে এমনিতেই বাতের ব্যথার রোগী, তাকে ধরে ইচ্ছেমতো মেরে পুলিশে দিল।

এক বুয়েটিয়ান কুরআনের হাফেজকে আহসানউল্লাহ হলের পাশে মাটিতে ফেলে পিটিয়েছে৷ আমি ছিলাম কাছেই, বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে, রুখে দিতে পারিনি, নিজেকে খুব দুর্বল লেগেছিল।

কতগুলো বলবো? আজকের ঘটনার সাথে পার্থক্য হল- বাকী ঘটনাগুলোতে মার হয়তো এমনই বা এর চেয়েও বেশি খেয়েছে কিন্তু কারও মারা যায়নি, আজ মারা গেল।

ছাত্রশিবির সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম। সাবেকবুয়েট শিক্ষার্থী। বুয়েটের সিনিয়র এই শিক্ষার্থী অবশ্য আবরারের মত “শিবির সন্দেহ” না বরং “আসল শিবির” ক্যাটাগরিতে আবরারের হত্যাকারী বুয়েট ছাত্রলীগের হাতেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

গত দুই বছর আগে একাডেমিক প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। পরে কথিত টর্চাল সেলে নিয়ে তার শরীর ক্ষত বিক্ষত করে দেয়।

উল্লেখ্য, ভারতের সাথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একতরফা চুক্তির বিরুদ্ধে একটি বিশ্লেষণধর্মী ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পৈতৃক ভিটা রায়ডাঙ্গা গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে আবরারে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

Comments

comments