আবরারকে পেটানোর রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন চিকিৎসক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও ব্যথায় তিনি মারা গিয়েছেন বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়।

তিনি বলেন, ‘ময়না তদন্তের পর আমরা তার সমস্ত শরীরে মারধর ও আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি।… মারের আঘাতের জন্যে সে মারা গিয়েছে। আঘাতগুলো দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে তাকে ভোঁতা কোনো কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। এটি বাঁশও হতে পারে বা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পও হতে পারে।… তার শরীরের হাতে, পায়ে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে পরিমাণ আঘাতের চিহ্ন তার শরীরে পেয়েছি… এক্সটেনসিভ ব্রুইস ছিলো। আমাদের ধারণা সেই এক্সটেনসিভ ব্রুইসের জন্যে সে মারা গেছে। তার হাতে, পায়ে এবং পিঠে ব্লান্ট ফোর্স ইনজুরি ছিলো। এর জন্যে তার শরীরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও ব্যথায় সে মারা গিয়েছে।’

ঢামেক মর্গের সামনে নিহত আবরার ফাহাদের মামাতো ভাই জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ফাহাদ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকায় নটর ডেম কলেজে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পায়। পরে বুয়েটে ভর্তি হয়।

জহুরুল আরও বলেন, ফাহাদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ভারতের সাথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একতরফা চুক্তির বিরুদ্ধে একটি বিশ্লেষণধর্মী ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

নিহত শিক্ষার্থী আবরার বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের (ইইই) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।

জানা যায়, শিবির আখ্যা দিয়ে আবরারকে রবিবার রাত আটটার দিকে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে ছিলেন ১) মেহেদী হাসান রাসেল, সেক্রেটারি, বুয়েট ছাত্রলীগ, ২) মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ক্রীড়া সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ, ৩) আশিকুল ইসলাম বিটু, সহ-সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ, ৪) অনিক সরকার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ, ৫) ফারহান জাওয়াদ , সহ সম্পাদক ,বুয়েট ছাত্রলীগ, ৬) মেহেদি হাসান রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ ৭) ইসতিয়াক হাসান মুন্না- গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, ৮) অমিত সাহা, উপ-আইন সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ, ৯) মুজতবা রাফিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ, ১০) ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক, বুয়েট ছাত্রলীগ, ১১) মুহতাসিম ফুয়াদ, সহসভাপতি, বুয়েট ছাত্রলীগ। পরে রাত আড়াইটার দিকে পিটিয়ে হত্যা করে হলের সিঁড়ির পাশে আবরারের দেহ ফেলে রাখে তারা। এরপর ডাক্তারকে খবর দিলে তিনি এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Comments

comments