আ’লীগ নেতাকে পিস্তল ঠেকিয়ে বাড়িতে নিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলো যুবলীগ নেতা

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মাহফুজার রহমান বাবলুকে (৬০) প্রকাশ্যে অস্ত্র ধরে জেলা যুবলীগ নেতার বাড়িতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু মঙ্গলবার শাজাহানপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

আসামিরা হলেন- শাজাহানপুর বেড়াগাড়ি গ্রামের মো. নাদিম হোসেন (৩৫), বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার মো. রাব্বী (৩০), মিঠু (৩০) ও মো. লিটন (২৮)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজার রহমান বাবলুর পরিচিত মোফাজ্জল হোসেনের কাছে আসামি নাদিম হোসেনের ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ ব্যাপারে মোফাজ্জল হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর শরণাপন্ন হন। মোফাজ্জল দুই মাসের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধে অঙ্গীকার করেন।

মোফাজ্জল নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেয়ায় নাদিমের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এ ছাড়া নাদিম এ জন্য বাবলুকে দায়ী এবং তাকে হুমকি দেন। এর জের ধরে নাদিমের নেতৃত্বে আসামিরা গত রোববার বেলা ২টার দিকে চারটি মোটরসাইকেলে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর এলাকায় পুরনো থানা ভবনের সামনে আসেন।

তারা সেখানে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজার রহমান বাবলুর কোমরে পিস্তল ধরে তাকে জিম্মি করেন। এরপর তাকে বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকায় জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ শেখের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারপিটের পর তিনটি ১০০ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে তার পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়া হয়েছে। বাবলু মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বাবলু অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা আলহাজ্ শেখের হুকুমেই নাদিমরা তাকে পিস্তল ধরে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা যুবলীগ নেতা আলহাজ্ শেখ জানান, তিনি বাবলুকে তুলে আনার নির্দেশ দেননি। নাদিম, বাবলু ও অন্যরা এমনিতে তার বাসায় এসেছিলেন। তাকে কেউ মারপিট করেনি। অথচ তিনি থানায় মিথ্যা মামলা করেছেন।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত পর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Comments

comments