বেড়েই চলছে পেঁয়াজের ঝাজ: সন্ধ্যায় ৭০ টাকা সকালে ১১০

গতকাল সন্ধ্যায় ৭০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফেরেন সুমন আলী। বাড়ি ফিরতেই স্ত্রী রুমা জানান, পেঁয়াজের দাম নাকি আরও বাড়বে। শুনে সুমন আলী ভাবেন, সকালে গিয়ে আরও কিছু পেঁয়াজ কিনে আনবেন। সকালে বাজারে গিয়ে হতভম্ব তিনি। দেখলেন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়ে গেছে ১১০ টাকা। বিক্রেতা বললেন, ‘নিয়ে নেন স্যার, দাম আরও বাড়ব।’

পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত—গতকাল রোববার এ সংবাদে দেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে আজ সোমবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে দেশি আর ভারতীয় পেঁয়াজের দামের কোনো ভেদাভেদ নেই। সব পেঁয়াজই এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

আজ সোমবার সকালে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক কেজি কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ ও অনেকটা দেশি পেঁয়াজের মতো দেখতে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক পাল্লা ৪৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে দাম আরও কিছুটা বেশি। বাজার ঘুরে দেখা গেল, অন্য সময়ের চেয়ে বাজারে পেঁয়াজের বিক্রেতা অনেক কম। অন্যদিকে ক্রেতারা সংখ্যায় অনেক বেশি।

পেঁয়াজ কিনতে আসা সুমাইয়া নামে এক ক্রেতা জানালেন, দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় সকাল সকাল পেঁয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি। পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ৫২০ টাকা দিয়ে।

কারওয়ান বাজারের মতো রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে রাতারাতি বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, আজ সকালে খুচরা বাজার থেকে ১১০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনেছেন তিনি। কোনো কোনো বিক্রেতা ১২০ টাকা কেজিও চাইছিলেন। আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, ১২০ টাকার কেজির নিচে কোনো ধরনের পেঁয়াজই পাননি তিনি।

এদিকে রাতারাতি এত দাম বেড়েছে কেন—জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পাইকারি এক বিক্রেতা বলেন, গতকাল দুপুরের পরও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন ৭২ টাকায়। সন্ধ্যায় তিনি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। আজ সকাল থেকে তিনি ১০৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, কাল দুপুরের পর থেকেই তাঁর কেনা দাম বেশি পড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গতকাল রোববার রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজকে রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানি বন্ধের ওই সিদ্ধান্ত রাতারাতি কার্যকর করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবরটি গতকাল বেলা তিনটার দিকে ভোমরা ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আসে। তখনই বাংলাদেশের পথে থাকা সব ট্রাক আটকে দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আর এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে সময় লাগেনি।

দেশের বাজারে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকেই পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। এক দিন পর বাংলাদেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বাড়ে প্রায় ১৫ টাকা। এরপর আরও কয়েক দফা দাম বেড়ে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫-৮০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এর মধ্যে গতকাল পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল ভারত।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে এবার সে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভারতের দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যের বাজারে গত সপ্তাহে থেকে ৭০ থেকে ৮০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দেশের বাজারে পেঁয়াজের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভারতের সরকার রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো

Comments

comments