সেনা প্রধানের পরিবারও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই বলে থাকেন যে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে ভোগ-বিলাস করার জন্য। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় মানুষের সেবা করে। আমরা ভোগ-বিলাস করি না। লুটপাট্ করি না। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি করলেও চলমান অভিযান বেরিয়ে এসেছে আসলে ক্ষমতায় এসে কারা ভোগ-বিলাস আর লুটপাট করে।

বিগত ১১ বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে ক্ষমতার কি পরিমাণ অপব্যবহার করেছে চলমান অভিযানে তার খন্ড চিত্র মাত্র। কারণ, রাঘববোয়াল গুলো এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। ওদেরকে ধরা হলে লুটপাটের হয়তো কিছু অংশ বেরিয়ে আসতে পারে।

এই ক্ষমতার অপব্যবহার শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই করেনি। শেখ হাসিনার একান্ত বাধ্যগত হিসেবে পরিচিত বর্তমান সেনা প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। আজিজ আহমেদ যে এদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জুসেফের বড় ভাই। তার ক্ষমতার বলেই ফাঁসির কন্ডম সেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী জুসেফ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেনা প্রধান আজিজের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই তারা মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন। সেনা প্রধান আজিজের বড় ভাই হারিস নববই এর দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে যুবলীগে যোগ দেন। এরপর তৎকালীন ৪৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরও হন হারিস। এরপর থেকেই আর্মি অফিসার ভাই আজিজ ও কাউন্সিলর ভাই হারিসের প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে তাদের ছোট ভাই তোফায়েল আহমেদ জুসেফ। মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগ এলাকায় যত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকা- আছে সবই করতো জুসেফ। আর এসব করতে গিয়ে বিপদ আপদ আসলে তাকে সেইফ করতেন আজিজ ও হারিস।

দীর্ঘদিন ধরে জুসেফ এলাকায় না থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন-হত্যাসহ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে হারিসের ছেলে আসিফ। আগামীতে বর্তমান ৩৩ নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন করবে আসিফ। সেনা প্রধানের ভাতিজা আসিফ এখন মোহাম্মদপুর এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তার ভয়ে মানুষ সর্বদাই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। জীবনের ভয়ে মানুষ কিছু বলতেও পারে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ নয়, ক্যাসিনো নামের অবৈধ জুয়ার ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত সেনা প্রধান আজিজের ভগ্নিপতি বাবু। মোহাম্মদুপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডের একটি বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বাবু দীর্ঘদিন ক্যাসিনো ব্যবসা করে আসছে। এলাকার অনেকেই বিষয়টি জানে। কিন্তু, ভয়-আতঙ্কে কেউ মুখ খুলতে পারছে না।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা বলছেন, সেনা প্রধান আজিজের ভাতিজা আসিফ ও তার ভগ্নিপতি বাবুকে গ্রেফতার করলে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে। এখন আজিজের পরিবারের সদস্যদেরকে সরকার গ্রেফতার করবে কিনা সেটাই বড় কথা।

Comments

comments