মানুষ মেরে সুপ্রভাত বাস এখন ভিক্টর ক্লাসিক!

সুপ্রভাত পরিবহনের বাস রাতারাতি বনে গেছে ভিক্টর ক্লাসিক। কিছু বাস চলে আকাশ এন্টারপ্রাইজের নামেও। নাম বদলালেও বাসের মালিক-শ্রমিকরা একই; আচরণও আগের মতোই। জানা গেছে, ভিক্টর ক্লাসিক বাসের অর্ধেকের নেই রুট পারমিট। এতো অনিয়মের মধ্যে এই রুটে থেমে নেই ঘাতক বাসের মানুষ হত্যা।

সুপ্রভাত পরিবহনের প্রধান স্টপেজ ছিল পুরান ঢাকার শাখারীবাজার মোড়। সেই স্টপেজে এখন ঘাটি গেড়েছে ভিক্টর পরিবহন।

বোঝাই যায়, বন্ধ হওয়া সুপ্রভাতের নাম এখন ভিক্টর ক্লাসিক। মোড়ের পাশে বড় ছাতি আর চেয়ার-টেবিল পেতে বসেন ভিক্টর ক্লাসিকের সুপারভাইজার ও চেকাররা। যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরা দেখে, সেখান থেকে সটকে পড়েন ক’জন।

কথা হয়, একজন সুপারভাইজারের সাথে। তিনি জানান, আবরার মারা যাওয়ার পর সুপ্রভাত সিস্টেমে ভিক্টর ক্লাসিক হয়ে গেছে।

জানা যায়, শুধু ভিক্টর নয়, আরো কয়েকটি রুটে বিভিন্ন কোম্পানির নামে নেমেছে সুপ্রভাতের ওই বাসগুলো।

সম্প্রতি, ভিক্টর ক্লাসিকের চাপায় সঙ্গীতশিল্পী পারভেজ রব নিহত ও একদিন পর তার ছেলেকে নির্মমভাবে আহত করার ঘটনায় আলোচনায় ওই রুটের বাস। তখনই বেরিয়ে আসে, পেছনের কাহিনী। যে সুপ্রভাত, চাপা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মেরে এবং যাত্রী হয়রানি করে বন্ধ হয়ে যায়, সেগুলোর বদলেছে নাম আর রং। রাজধানীতে এমন অনিয়ম এখন ওপেন সিক্রেট।

সদরঘাট-আব্দুল্লাহপুর রুটে, এখন তিনশ’র মতো বাস চলছে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের আওতায়। এরমধ্যে কিছু বাস আগে ছিল, মূল ভিক্টর পরিবহন নামে যা লোকাল বাস হিসেবে চলতো। পরে সুপ্রভাতের দেড়শ’র মতো এনে, নাম দেয়া হয়েছ, ভিক্টর ক্লাসিক সিটিং সার্ভিস। চালুর পর নতুন আরো শ’খানেক বাস সার্ভিসে যোগ করেন মালিকরা। গুলিস্তানের শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, যে নতুন বাস নামানো হয়েছে, সেগুলোর নেই রুট পারমিট।

গণপরিবহন বা বাসের এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্য মালিকদের দুষছেন শ্রমিক নেতারা।

Comments

comments