অবৈধভাবে ছিট দখলের পর এবার এসি রুমে ছাত্রলীগ সেক্রেটারি!

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে’ ভাবে হলের ছিট দখলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার নিজ রুমে এসি নিয়ে সমালোচনায় পড়েছেন তিনি। তবে এবার এসি নিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে নয় ডাকসুর জিএস পরিচয়ে।

তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পর গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীরা যখন অভিশপ্ত গণরুম প্রথা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখে। ঠিক তখন ডাকসু নেতাদের এমন আচরণে শিক্ষার্থীরা হতাশ।

গত কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণরুমে থাকা প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থীর ছারপোকার কামড়ে পিঠের উপরাংশে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ক্ষত অংশের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেয়ার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা কমেন্টে গণরুমের আরও নৃশংসতার কথা ও চিত্র তুলে ধরেন।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যার সমাধান না করে উল্টো দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর নিজ অফিস কক্ষে কয়েক সপ্তাহ আগে নতুন এয়ার কন্ডিশন (এসি) লাগানো হয়। এতে শিক্ষার্থী ও ছাত্রপ্রতিনিধিদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এবছরের শুরুতে শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার পর হলের ছিট বাতিল করা হয়। নতুন করে এমফিএলে ভর্তি হলেও তাকে হলের বৈধ আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। সে অবৈধভাবে কক্ষ দখল করে রয়েছে বলে ঐ সময় অভিযোগ করেন সাধারন শিক্ষার্থীরা।

এরপর ১১ মার্চ ডাকসু নির্বচনের অংশ নিয়ে জিএস হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় হলে অবস্থানরত ছাত্রদের নানা অযুহাতে নির্যাতন করতো রব্বানী ও তার অনুসারীরা। গত রবিবারও  গোলাম রাব্বানীর প্রটোকলে না যাওয়া এবং গেস্টরুম না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের চারটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় রাব্বানীর অনুসারীরা। এমন কি , প্রোগ্রাম-গেস্টরুম না করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের ‘জামায়াত-শিবির’ আখ্যা দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। কিছুদিন আগে মহব্বত নামের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল আখ্যা দিয়ে বের করার হুমকি দেওয়া হয়।

জিএসের রুমে এসি লাগানোর বিষয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, যেখানে ছাত্ররা গণরুমে পচে মরেতেছে সেখানে একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জিএস তার অফিস কক্ষে কোনোভাবেই এসি লাগাতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যাদের ফ্যান লাগানোরই ব্যবস্থা নেই, গরমে ঘুমাতে পারেন না সেখানে একজন এত বড় ছাত্র প্রতিনিধির রুমে কোনোভাবেই এসি লাগানো আমি নৈতিকভাবে সমর্থন করি না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, একজন ছাত্রনেতা কোনোভাবেই রুমে এসি লাগাতে পারেন না। এসির ভেতরে বসে শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনুভব করা যায় না। একজন ছাত্রনেতার কখনও বিলাসী জীবনযাপন করা উচিত নয়। এ ছাড়াও নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের কাছে বিলি করা নম্বরেও শিক্ষার্থীদের কোনো জরুরি সমস্যায় তার কাছে ফোন দিলে সে ফোনও রিসিভ করেন না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

Comments

comments