কাশ্মীরের শহীদ পরিবারের কাছে যাবেন আফ্রিদি

কাশ্মীরে শহীদ হওয়া পরিবারকে সান্তনা দিতে যাবেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর শহীদ পরিবারকে সংহতি জানাতে যাবেন পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ক।

বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটায় নিজের অফিসিয়াল টুইট বার্তায় এ তথ্য জানান শহিদ আফ্রিদি। টুইট বার্তায় তিনি, ‘আসুন আমরা প্রধানমন্ত্রীর (ইমরান খান) ডাকে সারা দিয়ে কাশ্মীরের মুসলমানদের সহযোগিতা করি। আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টায় কাশ্মীরের মুসলমানদের প্রতি সংহতি জানাতে আমি করাচির ঐতিহ্যবাহী মাজার- ই-কায়েদে থাকব। আপনারাও আমার সঙ্গে যোগ দিন।’

আফ্রিদি আরও বলেন, ‘আগামী ৬ সেপ্টেম্বর আমি একজন শহীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যাব। যে কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্যদের হাতে শহীদ হয়েছে। আমি শীঘ্রই কাশ্মীর সীমান্ত (এলওসি) পরিদর্শন করব।’

অবরুদ্ধ কাশ্মীরিদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গতকাল মঙ্গলবার কাশ্মীর সীমান্তে যান আমির খান। ব্রিটিশবংশোদ্ভূত পাকিস্তানি এ বক্সার লাইন অব কন্ট্রোল তথা কাশ্মীর সীমান্ত রেখার কাছে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

এদিন ইমরান খান বলেছিলেন, আমি ব্রিটেন থেকে কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে এসেছি। আমি চাই আজাদ কাশ্মীরে নাগরিকরা যেভাবে স্বাধীনতা ভোগ করছেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও এমনটি হোক। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও কাশ্মীর বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। আমরা এই বিষয়ে সমাধান চাই।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ ১৯৪৭ সালের পর থেকে সাংবিধানিকভাবে যে বিশেষ মর্যাদা পেত, সেটি বাতিল করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সম্প্রতি ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়।

গত ৫ আগস্ট ভারত সরকার কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয়। এরপর থেকে জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিম পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন।

শুধু আমির খানই নন, কাশ্মীরের মুসলমাদের প্রতি সংহতি জানাতে সেখানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিঁয়াদাদ।

সোমবার নিজের অফিসিয়াল টুইটারে একটি ভিডিও বার্তায় পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ক কাশ্মীর সীমান্তে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডেতে ৩১টি সেঞ্চুরির সাহায্যে ১৬ হাজার ২১২ রান করা মিঁয়াদাদ বলেন, ‘মার্চ করতে করতে কাশ্মীর সীমান্তে শান্তির জন্য যাব। তারকা ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ দেশের গুণিজনকে এই মার্চে অংশ নেয়ার আবেদন জানাচ্ছি। কাশ্মীরে যদি মুসলিম নির্যাতন বন্ধ না হয় তাহলে যারা আমার সঙ্গে যেতে চায় তাদের সঙ্গে সীমান্তে যাব। সেখানে গিয়ে শান্তির বার্তা দেব, আর বলব আমরা কাশ্মীরীদের পাশেই রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের অন্যান্য কিংবদন্তির সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) কাশ্মীরের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা আনতে এবং শান্তির আহ্বান জানাতে যাব।’

Comments

comments