গণপিটুনি ঠেকানোর চেষ্টা, সাংবাদিককে হেনস্থা করল পুলিশ!

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো পুলিশের হেনস্থার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। বুধবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় কারওয়ানবাজার মোড় পুলিশ বক্সের সামনে ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘চুরি’ করার অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়ে এক ‘নেশাগ্রস্থ’ যুবক। শুরু হয় জনগণের মারধর, লাথিঘুষি, চড়থাপ্পড়। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কেটে যায়। ওই মুহূর্তে সেখানে ছিলেন তিন-চারজন পুলিশ সদস্য, ছিলেন আনসার সদস্যও। এক পুলিশ কর্মকর্তাও ওই যুবককে ওয়াকিটকি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। লোকটি চিৎকার করে ব্যথায় নুইয়ে পড়ছিল।

নাম প্রকাশ না করে একজন বলেন, মারধরের ওই সময় উপস্থিত জনতাকে ওই পুলিশ সদস্য বললেন, ‘মার, শালারে পিটাইয়া মাইরা ফালা।’ এরপর খ্যাপা জনতা অনবরত চড়, থাপ্পর, লাথি মারতে থাকল। আর পুলিশ-আনসার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন।

এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রদীপ দাস নামের এক সাংবাদিক। তিনি ঘটনার ভিডিও করছিলেন। এটা দেখে ক্ষেপে যান সেখানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা।

লোকটিকে না পিটিয়ে আইনের আওতায় নিতে বললে সাংবাদিক প্রদীপ দাসকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করেন। পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, লোকটা হিরোইনসি, তাই তার বিরুদ্ধে মামলা হবে না বা তাকে থানায় রাখা যাবে না। তাই এমন গণপিটুনিই তার শাস্তি।

এসব বলে এবার ওই সাংবাদিককে হেনস্তা শুরু করলেন পুলিশ কর্মকর্তা। তাকে টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

এমন ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক প্রদীপ দাস। এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। সেখানে দেখা যায়, ‘চুরি’র অপরাধে আটক হওয়া যুবককে ধরে মারছেন দুই আনসার সদস্য। তাদের আটকানোর চেষ্টা করছেন ওই সাংবাদিক। একপর্যায়ে ওই সাংবাদিকের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় পুলিশের। ভিডিওতে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, আপনাকে মামলা করতে হবে, আপনি বাদি হয়ে মামলা করবেন। চলেন থানায় চলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তুষার বলেন, ‘আমি তখন ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। এখানে এক যুবককে সবাই মারছে দেখে দাঁড়ালাম। ওই সাংবাদিক ভাই সবাইকে মারতে নিষেধ করছিলেন। ঘটনার ভিডিও করছিলেন। সাংবাদিক ভাই পুলিশকে বলছিলেন, ওই যুবককে জনতার হাতে তুলে না দিয়ে থানায় নিয়ে যেতে। কিন্তু পুলিশরা তার উপর ক্ষেপে যান। তাকে ধরে টানা হেঁছড়া শুরু করেন। ভিডিও করা বন্ধ করতে বলেন। এসময় আমিও ভিডিও করছিলাম, আমাকেও তারা ভিডিও করা বন্ধ করতে বলেন। পুলিশের এমন নাজেহালে ওই সাংবাদিক ভাই চুপ হয়ে যান।’

এ ব্যাপারে সাংবাদিক প্রদীপ বলেন, ‘উত্তেজিত জনতা যেভাবে লোকটিকে মারছিল যেকোনো সময় তার মৃত্যু হতে পারতো। পুলিশের উচিত ছিল লোকটিকে জনতার হাতে তুলে না দিয়ে তাকে ফেরানো এবং আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। অথচ পুলিশ তা করেনি, উল্টো এর প্রতিবাদ করায় পুলিশ আমাকে হেনস্তা করেছে, যা অপ্রত্যাশিত।’

এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার ডিসি আনিসুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার নলেজে কিছুই আসে নাই, আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ভিডিও:

Comments

comments