জামালপুর সদর হাসপাতাল যেন ময়লার সদরদপ্তর!

জামালপুরে ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে একদিকে চলছে ডেঙ্গু রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা। অন্যদিকে হাসপাতাল ক্যাম্পাসেই এডিস মশার বংশবিস্তার সহায়ক ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। এ যেন ময়লার সদরদপ্তরে পরিণত হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে দুটি বাগান মাঝেমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের ওয়ার্ডের কাছাকাছি ওই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় না। এতে করে হাসপাতাল এলাকায় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গুরোগী ও তাদের স্বজনসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও রোগীর স্বজনদের আনাগোনায় গোটা হাসপাতালে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু এডিস মশার বংশবিস্তার সহায়ক ময়লার পরিষ্কারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে দেখা যায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন ও চারতলা ভবনের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের মেঝে ঝাড় দিতে দেখা যায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের। হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনের বাগান ও হাসপাতাল ভবনের মূল ফটকের সামনের বাগান নিয়মিত পরিষ্কার করতে দেখা গেলেও হাসপাতাল ক্যাম্পাসের লাশঘরের পাশেই খোলা জায়গায় গড়ে ওঠা ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় না।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ও রোগীদের আবাসিক ভবনের বর্জ্য নিষ্কাশনের ড্রেনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে, যেখানে-সেখানে ডাবের খোসা ও খোল, বিভিন্ন মেডিক্যাল বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। এই হাসপাতালের নির্ধারিত কোনো ডাস্টবিন নেই। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের পেছনে লাশঘর এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ের পাশেই গোটা হাসপাতালের মেডিক্যাল বর্জ্য ও আবাসিক ভবনের বর্জ্যসহ সকল প্রকার ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। ফলে সেখানে ময়লা-আবর্জনার সদরদপ্তরে রূপ নিয়েছে।

এই স্তূপে সব ধরনের দূষিত আবর্জনার সঙ্গে রয়েছে এডিস মশার বংশবিস্তার সহায়ক অসংখ্য ডাবের খোসা বা খোল, স্যালাইনের ব্যাগ, পলিথিন। বিশেষ করে ডাবের খোসাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ ডাবের খোসাতেই পানি জমে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অথচ আজ মঙ্গলবার দুপুরেও হাসপাতালের বাগান পরিষ্কার করতে দেখা গেছে দু’জন পরিচ্ছন্নকর্মীকে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সেখান থেকে দূষিত দুর্গন্ধে হাসপাতাল এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকিতে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেইদিকে কোনো নজর দিচ্ছে না।

এদিকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালের নারী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে এবং জরুরি বিভাগের অস্থায়ী ওয়ার্ডে সর্বমোট ৩৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন নারী রোগীও রয়েছেন। এ নিয়ে গত ২২ জুলাই থেকে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জামালপুর সদর হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ৪৯ জন।

হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও সারা বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে পাঁচশতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে অধিকাংশ রোগীদের প্রতিটি ওয়ার্ডের মেঝেতে এবং বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। সাম্প্রতিক সারাদেশে ডেঙ্গু রোগ বিস্তার লাভ করায় এই হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডকে এরই মধ্যে ডেঙ্গু ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জরুরি বিভাগের পাশের দুটি কক্ষে সাতটি বিছানা দেওয়া হয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য। ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হওয়া অব্যাহত থাকায় নারী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের মেঝে এবং বারান্দায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতাল ক্যাম্পাসের লাশঘরের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সম্পর্কে আমাকে হাসপাতালের কেউ কোনো কিছু জানায়নি। আমি তা দেখে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কারসহ গোটা হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেব।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

Comments

comments