ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে শ্রমিকলীগ নেত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়!

‘রাজনীতির নামে ওবায়দুল কাদের সেক্সনীতি করেন’ এমন অভিযোগ এর আগেও তুলেছিলেন ব্রহ্মণবাড়িয়ার মহিল লীগ নেত্রী ফারহানা মিলি। এবার প্রায় একই রকম বিস্ফোরক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের সভানেত্রী শামীমা আক্তার জলি।

এদিকে ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে নিয়মিত বিরতিতে জলি আর মিলিদের এসব স্বীকারোক্তি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে হাস্যরস ও সমালোচনার ঝড়।

অনেকেই আগ্রহ নিয়ে শামীমা জলির পোস্টে জানতে চেয়েছেন এই ঘটনা ওবায়দুল কাদেরের সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগের নাকি পরের ঘটনা। এ ব্যাপারে কোনো প্রতি মন্তব্য না করলেও ওই ফেসবুক পোস্টে শামীমা জলি জানিয়েছেন – ‘আমাকে উপর থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে আমার আইডি হ্যাক হয়েছে বলানোর জন্যে। হয়তো তাই করতে হবে। কিন্তু সত্য কোনটা আপনারাই জানেন।’

এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটে (সোমবার) নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (Jolly Shamima) থেকে দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে বগুড়া জেলা শ্রমিকলীগের সভানেত্রী শামীমা আক্তার জলি লিখেছেন- “যে দলের জন্যে যৌবনের পুরো সময়টা শেষ করেছি সেই দলের ২য় সর্বোচ্চ একজন নেতা আমাকে ধোকা দিয় সব কেড়ে নিয়ে এখন সব অস্বীকার করবে। এটা মেনে নিয়েও দল করতে হবে? নেত্রীর কাছে বিচার আর যেন কোন মেয়ে কাদের সাহেবের দ্বারা নষ্ট না হয়।” তার এই ফেসবুক পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে ঘনিষ্ট মূহুর্তের দুটি ছবিও পোস্ট করেন। যে ছবিতে জঙ্গিনেতা শায়খ আব্দুর রহমানের শ্যালক মির্জা আজম ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ বেশ কিছু নেতা নেত্রীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে প্রায় ১১ ঘন্টা আগে দেয়া এই শ্রমিকলীগ নেত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারীই ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে তির্যক মন্তব্য করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে দলের নারী নেত্রীদের এ ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। গেলো বছরের ৩ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা মিলি তার ফেসবুক আইডি থেকে লিখেছিলেন, ‘রাজনীতি বুঝুক না বুঝুক, সেক্সনীতি বুঝলেই বাপের বয়সী সাধারণ সম্পাদকের কোলে বসে ফুরতি করাটাই রাজনীতিতে পদবী পাওয়ার কাজ দেবে! শিক্ষিত না হলে দোষ নাই, একাধিক নেতা আর ব্যবসায়ীদের শারীরিক সুখ দিতে পারলেই পদবী পাওয়া যাবে!

তিনি আরো লিখেছিলেন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই চারটা রাজনৈতিক ভালো কথা বলতে না পারলেও হোটেলে গিয়ে বাচ্চাদের ভঙ্গিমায় প্রেমালাপ পারলেই রাজনীতি হবে! স্বামীর রোজগারে ঠিকমত বাসাভাড়া আসবে না, কিন্তু জীবন যাপনের স্টাইল লাখ টাকার বাজেটে করতে পারাটাই রাজনৈতিক স্বার্থকতা তাদের জন্যে!…’

ফারহানা মিলির এই স্ট্যাটাসটি নিয়ে কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে তাকে দল থেকে দুইদিন পর ০৫ মার্চ বহিষ্কার করা হয়।

Comments

comments