৩ বছরেও গ্রেপ্তারকৃত সন্তানের খোঁজ মেলেনি, সন্ধান চেয়ে পরিবারের বিবৃতি

২০১৬ সালের ৪ আগষ্ট যশোর থেকে কলেজ ছাত্র রেজওয়ান হোসেনকে আটকের পর ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তার আদালতে হাজির না করায় উদ্ধেগ প্রকাশ ও অনতিবিলম্বে তার সন্ধান দাবী করে বিবৃতি প্রদান করেছে তার পরিবার।

বিবৃতিতে রেজওয়ানের মা সেলিনা বেগম বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগষ্ট দুপুর ১২টায় বেনাপোল পোর্ট সংলগ্ন দূর্গাপুর বাজার থেকে কোন কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয় আমাদের সন্তান রেজওয়ানকে। খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। এরপর থেকে আমরা বার বার আইনশৃঙ্খলা বাহীনির দারস্থ হচ্ছি। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর আজ ৩টি বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোন খোঁজ দেয়নি এবং আদালতেও তোলেনি পুলিশ। উল্টো রহস্যজনকভাবে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ তাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে দোকান কর্মচারী, মালিকসহ অসংখ্য মানুষের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আমরা বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানতে পেরেছিলাম সর্বশেষ আমাদের সন্তান পুলিশ হেফাজতেই ছিল। একজন নিরাপরাধ মেধাবী ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা এবং এতদিন হয়ে গেলেও আদালতে না উঠানোয় এলাকাবাসীসহ সবাই বিস্মিত এবং উদ্বিগ্ন। এটা কোনভাবেই দায়িত্বশীল পুলিশের কাজ হতে পারেনা বরং তা সরাসরি প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। স্বয়ং পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার ও দ্বীর্ঘদিন পর্যন্ত তাকে আদালতে না তোলায় আমাদের মনে নান শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় আমরা তার জীবন নিয়ে শঙ্কাবোধ করছি। আমাদের জানা মতে, সে কোন অপরাধের সাথে জড়িত নয়। এরপরও সে যদি কোন অপরাধ করেও থাকে, তাহলে এর জন্য দেশের আইন মেনেই বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু পুলিশ তা করছে না। স্বয়ং পুলিশই যদি বেআইনি ও অমানবিক কাজ করে তাহলে আমরা যাব কোথায়?

তিনি বলেন, আমরা আইন আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পবিত্র দায়িত্ব পদপৃষ্ট করবেন না। পুলিশের কাছে আমার সন্তানের নিরাপত্তা দাবি করছি। আমাদের আকুল আবেদন, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের সন্তানকে আদালতে উপস্থাপন করুন। আমাদের সন্তান যদি সত্যিই কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাকে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। আমি জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমার সন্তানের আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সন্তানের সন্ধান ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানিয়ে বলেন, দয়া করে আমাদের আদরের সন্তানকে আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিন। বাবা- মায়ের আকুতি পদদলিত করবেন না। তিনি তার ছেলের সন্ধানের জন্য সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

(বিবৃতি)

Comments

comments