দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কি ইউজিসি ভরসা রাখতে অক্ষম?

ভারতের দেবী শেঠির হাসপাতালের সঙ্গে ইউজিসির জন্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এনিয়ে  সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সমালোচনার জন্মনিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসক তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন ভারত থেকে ইউ জি সি না করে ফিরে আসা রোগীর সাথে তার কথোপকথন।

সংবাদের পাঠকদের জন্য তাদের কথোপকথন হুবহু তুলে ধরা হলো:

ইউ জি সি যখন ভারতের সাথে চিকিৎসা চুক্তি করছে তখন ভারত থেকে ফেরত এলো মধ্য বয়স্ক শহীদুর রহমান। তার বাম কিডনির নলের শেষ অংশে বিরাট একটা লম্বাটে পাথর, ডাক্তারি ভাষায় Left lower ureteric Stone.

বললাম, এই অপারেশনতো বাংলাদেশের যে কোন হাসপাতালে করা যায়, ভারত গিয়েছিলেন কেন?

অপরাধীর ভাব সারা মুখে ফুটিয়ে বললো,‘চাচাতো ভাই নিয়ে গেল স্যার। বাড়ির সবাই বললো, বাংলাদেশে চিকিৎসা নাই।’

আমি হেসে বললাম, গেলেনতো আবার ফিরে এলেন কেন? কোঠারীতো শুনেছি বিশাল হাসপাতাল?

এবার যেন আরও অপরাধ করে ফেলেছে, তাই কাঁচুমাচু করে বললো,‘স্যার আমি গরীব মানুষ, জায়গা জমি বেঁচে ভারতে গেলাম। সবাই বললো, বেঁচে থাকলে জায়গা জমি হবে। তাই বাঁচার আশায় গেলাম স্যার। খালি পরীক্ষা করতেই চলে গেল তিরিশ হাজার। হোটেলে থাকা খাওয়া দাওয়া, সাথে চারজন মানুষ।’

বললাম, অপারেশনে কত টাকা চেয়েছিল?

শহীদুর বললেন, ‘অপারেশনের জন্যে নব্বই হাজার আর বিছানা আলাদা।’

হাসতে হাসতে বললাম, ‘বাংলাদেশের ডাক্তাররাতো কসাই, আমরা কিন্ত ছুরি ধরে এর দ্বিগুণ টাকা নিয়ে নিব।

এইবার শহীদুরের মুখেও হাসি ফুটলো। বললো, নেন স্যার, মরলে দেশেই ডাল ভাত খেয়ে মরবো, বিদেশে অনেক কষ্ট।

বললাম,সব কষ্ট শেষ। আপনার অপারেশন শেষ।

শহীদুর রহমান, আশ্চর্য হয়ে বললেন, স্যার কখন অপারেশন শুরু করলেন? বুঝতেই পারলামনা।

বললাম, এই অপারেশন বাংলাদেশের যেকোনো হাসপাতালে এর চেয়েও সহজে এবং কম খরচে করা হয়।

শহীদুর রহমান আফসোস করে বললেন, “আমরা সাধারন মানুষ, কিছুই জানিনা স্যার। সবাই বলে দেশে চিকিৎসা নাই। আমরাও তাই বিশ্বাস করি।”

অসাধারনদের প্রচারণায় এভাবেই সাধারনরা ঠকে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। যার যেখানে খুশি চলে যান, কিন্তু দয়া করে অপপ্রচার করে দেশ এবং দেশের সাধারন মানুষের ক্ষতি করবেননা। আমাদের নিজেদের যা আছে তাই নিয়ে আমাদের অহংকার।

“মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই
দীন দুখিনি মা যে আমার এর বেশি আর সাধ্য নাই।”

Comments

comments