জামালপুরে জামায়াত-শিবির কর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

এবারের বন্যায় জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তাঘাট ও ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়কপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমনি একটি ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা হলো দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জের সংযোগকারী বাহাদুরাবাদ-সারমারা-গোপালপুর সড়ক। বন্যায় এ সড়কটির আকন্দপাড়া-বগারচর অংশে একটি পাকা কালভার্ট সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগারচর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে জামায়াত-শিবির কর্মীসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় লোকজন বিপুল উৎসাহ ও স্বেচ্ছাশ্রমে এখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। দুইদিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ওই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কাজ শেষে শুক্রবার (২ আগস্ট) তা জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এদিকে শুক্রবার (২ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক আব্দুল হামিদ ও জামালপুর জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী সরেজমিনে স্বেচ্ছাশ্রমের এ মহৎ কাজ পরিদর্শন করেন ও স্থানীয় বানভাসী মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

বগারচর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বকশীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শফিকুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত ওই স্থানে স্থায়ী ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণের জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, এবারের বন্যায় সারা জেলায় ৫৬২টি পাকা সড়ক বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে এক হাজার ৪২০ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা। ২৪৯টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১৯২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া স্কুল, ইউপি ভবনসহ নানা স্থাপনার আরও ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বরৈ জানা যায়।

Comments

comments