কানাডায় নাস্তিক সন্তানের হাতে খুন হলো বাংলাদেশী পুুরো পরিবার

কানাডার টরন্টোর মারখাম এলাকায় নিজ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে বাংলাদেশি যুবক মিনহাজ জামান (২৩)।

মিনহাজ উল্লেখ করেছেন, প্রথমে তিনি তার মাকে হত্যা করেন। পরে নানী, বোন এবং সবশেষে বাবাকে খুন করেন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও মারখামে নিহত পরিবারটি যে বাংলাদেশি, তা এখন নিশ্চিত। খুনের দায়ে গ্রেফতার হওয়া মিনহাজ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তো।

কেন সে নিজের মা, বাবা, বোন ও নানীকে হত্যা করলো তা সে কানাডার অনলাইন গেম, চ্যাটিং ও সংবাদ মাধ্যমে নিজেই বর্ণনা করেছে।

কানাডার গ্লোবাল নিউজে প্রকাশিত মিনহাজের পোস্ট

প্রথম কারণ ছিল অনলাইন গেমের প্রতি তার আসক্তি। এমনকি ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হওয়ার পরও সে এই আসক্তি ত্যাগ করতে পারেনি। প্রতিদিন ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার কথা বলে সে যেতো ভার্সিটির নিকটস্থ শপিং মলে অনলাইনে গেম খেলতে। দ্বিতীয় সেমিস্টারের সময় সে নাস্তিকতায় আক্রান্ত হয়। ফলে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে হতাশা বাসা বাঁধতে থাকে। এক পর্যায়ে অর্ধেক সাবজেক্টে ফেল করার কারণে সে ভার্সিটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এক পর্যায়ে নিজের সম্পর্কে সে খুবই হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। সে নিজেকে নরাধম মনে করে এবং তার মত সন্তানের জন্য পরিবার লজ্জা পাবে এই চিন্তা থেকে পরিবারের সবাইকে হত্যা করে নিজের বাকি জীবন কারাগারে কাটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয় ভাইস ডট কমে বন্ধুকে লেখা ঘাতক মিনহাজের পোস্ট

এর আগে, ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সান্তা ক্লারা সিটিতে হাসিব-বিন গোলাম রাব্বি (২২) নামক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণ গুলি করে তার বাবা গোলাম রাব্বি (৫৯) এবং মা শামিমা রাব্বি (৫৭) কে হত্যা করেন। রাব্বি দোষী সাব্যস্ত হবার পর জেল-জরিমানার অপেক্ষায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে। রাব্বি দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বগুড়া জেলা থেকে।

Comments

comments