‘দেশে ন্যূনতম সুরক্ষা নেই’

দেশে ন্যূনতম সুরক্ষা নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও তার জন্য জবাবদিহি না থাকা হলো একটি রাষ্ট্র অকার্যকর হওয়ার বড় লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আইনজীবী এ কথা বলেন।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের বাস্তবায়নের বিষয়ে ‘বাংলাদেশের সরকারের প্রাথমিক প্রতিবেদন: নির্যাতনবিরোধী কমিটির বক্তব্য ও আমাদের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি।

২০ বছর পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জমা দেওয়াকে প্রতিবেদন ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি। তবে সুরক্ষা কমিটি বলছে, জেনেভায় ‘অবাস্তব প্রতিবেদন’ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এই নাগরিক সংগঠন মনে করে, আইনমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিবেদনে অনেক আইনের কথা বলা হলেও প্রায়োগিক দিকগুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আজকের অনুষ্ঠানের সভাপতি শাহদীন মালিক বলেন, ‘জেনেভায় দেওয়া আইনমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে আইনজীবী হিসেবে লজ্জা পেয়েছি।’

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিবেদনে অনেক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, নির্যাতন বন্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই, প্রতিকারেরও কোনো উপায় নেই। তাই পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। আইনে না থাকলেও বাস্তবে গুম হচ্ছে। আবার নির্যাতন বন্ধে আইন আছে অনেক কিন্তু বাস্তবায়ন শূন্য।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারি প্রতিনিধিদল কমিটির বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের আলোকে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অমর্যাদাকর আচরণ প্রতিরোধে বিষয়ে উল্লেখ করলেও নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অন্যান্য সংগঠিত অপরাধের ব্যাপারে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়ার এবং দু–একটা ঘটনা ছাড়া অপরাধীদের বিচারে সোপর্দ না করার বাস্তবতাকে আড়াল করতে সচেষ্ট ছিল। সুরক্ষা কমিটি মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরাট অংশ, ক্ষমতাসীনদের বহুলাংশ এবং স্বার্থান্বেষী বিভিন্ন মহল আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে। অনেক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির সমাপনী পর্যবেক্ষণেও উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিরীন হক।

Comments

comments