আমরা দরিদ্র মানুষ, তাই এই ব্যবহারের সাথে মানিয়ে নিচ্ছি : ফাইয়াজ

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যখন মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে অনলাইনে অর্ডার করা খাবার পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছিলেন জোমাটো কর্মী ফাইয়াজ, তখনও ভাবতে পারেননি এই অর্ডারই তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠবে। আর পাঁচটা দিন যেমন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দেন, এটিকেও সাধারণ ডেলিভারির চেয়ে বেশি কিছু মনে করেননি ফাইয়াজ। তবে দুই ঘণ্টা পরেই বদলে যায় সমস্ত ঘটনা পরম্পরা। গ্রাহক অধিকার এবং ধর্মীয় পার্থক্য নিয়ে দেশ জুড়ে উত্তাল হয়ে ওঠা বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে ওঠেন জোমাটোর ডেলিভারি পারসন ফাইয়াজ।

গ্রাহক অমিত শুক্লা খাবার অর্ডার করেও তা বাতিল করে দেন কারণ ডেলিভারি পার্সন ফাইয়াজ একজন ‘অ-হিন্দু’ আরও স্পষ্টভাবে বললে একজন মুসলিম তিনি। ডেলিভারি এক্সিকিউটিভের ধর্ম অবশ্য খালি পেটের থেকেও বেশিই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে কট্টর হিন্দু অমিতের কাছে। তাই মুসলিম ব্যক্তির আনা খাবার মুখে রুচবে না তার, তাই বদলে দিতে হবে ডেলিভারি পারসনকে। এমনটাই দাবি ছিল অমিত শুক্লার।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক টুইটে বলেন,‘জোমাটোইন (@ZomatoIN)-এর একটি খাবারের অর্ডার বাতিল করলাম। ওরা আমার খাবার পৌঁছে দেয়ার জন্য একজন অ-হিন্দু ডেলিভারি পারসনকে বরাদ্দ করেছিল। তারা জানিয়েছে যে তারা এই ডেলিভারি পারসনকে পরিবর্তন করতে পারে না এবং অর্ডার বাতিল করলে টাকাও ফেরত দিতে পারবে না। আমি জানিয়েছিলাম, আমি যে ডেলিভারি নিতে চাই না, সেই ডেলিভারি নিতে আপনারা আমাকে বাধ্য করতে পারেন না, আমি রিফান্ডও (টাকা ফেরত) চাই না। অর্ডার বাতিল করে দিন।’

কট্টরপন্থী হিন্দু অমিত শুক্লার কট্টর টুইটের জবাবে জোমাটো এই ঘটনায় যা উত্তর দিয়েছে তা সারাদেশেই সাড়া ফেলে দিয়েছে। পাল্টা টুইট করে গ্রাহক অমিত শুক্লার অযৌক্তিক দাবি নাকচ করে দিয়ে জোমাটো বলেছে,‘খাবারের কোনও ধর্ম হয় না। খাবার নিজেই একটা ধর্ম’।

অবশ্য সামান্য একটা খাবার ডেলিভারি করতে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এতকিছু যে হয়ে যেতে পারে তা অবশ্য ঘুর্ণাক্ষরেও ভাবেননি মুসলিম যুবক ফাইয়াজ। তিনি বলেন,‘এমন ঘটনায় আমি আহত, তবে আমি কী করতে পারি… আমরা দরিদ্র মানুষ, আমাদের এই জাতীয় ব্যবহারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’

জোমাটোর প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়েল অবশ্য ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ ফাইয়াজের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। ফাইয়াজকে সমর্থন করে এক টুইটে দীপিন্দর বলেন,‘আমরা ভারতের ধারণা এবং আমাদের সম্মানীয় গ্রাহক এবং অংশীদারদের বৈচিত্র্য বিষয়ে গর্বিত। আমাদের মূল্যবোধের বিপরীত এবং বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনও কারণে ব্যবসা হারাতে হলেও আমাদের দুঃখ নেই।’ ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ আটওয়ালেও অমিত শুক্লার এই মনোভাবকে সমাজে ফাটল সৃষ্টির প্রয়াস বলেই মনে করেছেন।

তবে যার মনোভাব নিয়ে এত বিতর্ক সেই অমিত শুক্লা অবশ্য নিজের ‘ধর্ম’ বাঁচাতে যুক্তিহীনতাকেই আঁকড়ে রয়েছেন এখনও। একটি নিউজ চ্যানেলকে তিনি বলেন,‘আমার মত প্রকাশের এবং ধর্মের স্বাধীনতা কি ভারতের ধারণার আওতায় পড়ে না? পবিত্র শ্রাবণ মাস চলছে, এবং এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।’

অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশিসহ অনেকেই প্রশংসায় ভরিয়ে তুলেছেন এই অনলাইন খাবার ডেলিভারি সংস্থাকে। ওমর আবদুল্লাহ টুইট করেছেন,‘শ্রদ্ধা। আমি আপনাদের অ্যাপ্লিকেশনটি বেশ ভালোবাসি। এর পিছনে থাকা সংস্থার প্রশংসা করার জন্য এমন একটা কারণ দেয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’

সূত্র: নয়াদিগন্ত

Comments

comments