সরকারি টাকায় নিজের জন্য ব্রিজ বানাচ্ছেন আ.লীগ নেতা!

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতা সরকারি টাকায় নিজের জন্য ব্রিজ বানাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে সেতু নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের হাড়িকোনা গ্রামে জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।

সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের হাড়িকোনা গ্রামের স্থানীয়রা তাদের ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার আলীর ভাই আনোয়ার আলীকে স্বাধীনতা বিরোধী বলেও অভিযোগ করেছে।

গ্রামবাসী সরকারি অর্থায়নে স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তির বাড়ির জন্য সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বলেও জানা গেছে।

গত রোববার দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার আলীর বাড়ির সামনে নিজের পরিবারের জন্য একটি ব্রিজে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। সরকারি অর্থে তিনি ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগও নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে সেতু নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াও শেষ করেন তিনি। বর্তমানে সেটি কার্যাদেশ অনুমতির প্রক্রিয়াধীন।

ব্রিজটি নির্মাণে সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজাউল আলম চলতি মাসের ২ তারিখ লটারির মাধ্যমে কাজ পেয়েছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগকারী হাড়িকোনা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ কোরেশী দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আ.লীগ নেতা মনোয়ার আলীর ভাই আনোয়ার আলী একাত্তর সালে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার হিসেবে পরিচিত। জগন্নাথপুর উপজেলার রাজাকারের তালিকায় তার নাম আছে। সরকারি অর্থে এক ব্যক্তির বাড়ির জন্য সেতু নির্মাণের বিষয়টি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার যখন ক্ষমতায় তখন রাজাকারের বাড়িতে সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না তাই আমি সেতু নির্মাণ কার্যক্রম বাতিলের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করেছি।’

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি অর্থ বছরে জগন্নাথপুর উপজেলায় ১০টি সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ২ জুলাই লটারির মাধ্যমে সেতুগুলোর ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। ১০টি সেতুর মধ্যে সৈয়দপুর হাড়িকোনা রত্নাখালের ওপর সৈয়দ মনোয়ার আলীর বাড়ির সামনে ২১ লাখ ১৭ হাজার ৯৯১ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২৪ ফুট দৈঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সরকারি অর্থায়নে যিনি ব্যক্তিগতভাবে সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, তা সঠিক নয়। যিনি এটি করছেন তার ভাই স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে পরিচিত। ’

এ সময় ব্যক্তিগত সেতু নির্মাণ বাতিল করে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্ধারণ করে তা নির্মাণের দাবি জানান তিনি। আ.লীগের আগামী সভায় তিনি বিষয়টি তুলবেন বলেও জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কথা হলে পুরো বিষয়টিকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার আলী। তিনি বলেন, ‘আমি গত ২০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। বিগত ছয় বছর ধরে একটি সেতুর জন্য দাবি করছিলাম। এটি বাস্তবায়ন হলে আমার পরিবারসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি পরিবার উপকৃত হবে।’

মনোয়ার আরও বলেন, ‘আমার ভাই আনোয়ার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছিলেন। সেখানে তার মৃত্যু হয়। তাকে স্বাধীনতা বিরোধী বলা হচ্ছে, যা সঠিক নয়।’

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহাদাত হোসেন ভূইয়া দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রণয়ন কমিটির সুপারিশ ক্রমে আমরা সেতুগুলো চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে এক বাড়ির জন্য যদি প্রতীয়মান হয় তাহলে তা আমরা বাতিলের সুপারিশ করব।’

এ সময় কোনো ঠিকাদারকে ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ এখনও দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রনয়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, ‘এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়ছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজাকারের পরিবার কিনা সেটা বড় কথা নয়, বরং জনস্বার্থ আছে কি না সেটা দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Comments

comments