রাজধানী জুড়ে মশা নিধন, ডিএসসিসি ভবনেই এডিস মশার আবাসস্থল!

রাজধানী জুড়ে মশা নিধন বা ডেঙ্গু সচেতনতা নিয়ে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এমনকি বিভিন্ন বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানিতে লার্ভা পাওয়া গেলেও সেই মালিককে জরিমানা করছে সংস্থাটি। এতসব কর্মসূচীর যজ্ঞ যাদের হাতে খোদ সেই অফিস ভবনেই পাওয়া গেল মশার আবাসস্থল।

সংস্থাটির মূল কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরের একাধিক স্থানে মিলেছে এমন চিত্র। কোথাও কোথাও সারাবছর পানি জমে থাকে। আবার কোথাও পানি জমতে জমতে শেওলা ধরে গেছে। আর এসির পানি তো নিয়মিত-ই দেয়াল গড়িয়ে পড়ছে মেঝেতে। কিন্তু এসব বন্ধে নেই কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা। এতে মেয়রসহ সংস্থাটিতে যারা নিয়মিত অফিস করেন তারা যেকোনো সময় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন বলে একাধিক কর্মকর্তা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আর এজন্য দায়িত্বরতদের অবহেলাকেই দায়ী করছেন সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমে থাকা কোনো স্বচ্ছ পানিতে দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই উৎপত্তি হয় ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভা। বিশেষ করে এসির পানিতেই খুব দ্রুত এডিস মশার জন্ম হয়। তাই এসির পানি যাতে কোথাও না জমে থাকে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে ডিএসসিসির নগর ভবনের বিভিন্ন তলায় ও কক্ষে ঘুরে দেখা যায়, প্রথম তলার ব্যাংক ফ্লোর মিলনায়তনের বাইরের অংশের (দক্ষিণ পার্শ্বে) তিনটি স্থানে এসির পানি দেয়াল গড়িয়ে মেঝেতে পড়ছে। এসির পানি জমতে জমতে সে স্থানটিতে শেওলাও জমে গেছে। কিন্তু শেওলার উপরেই ভেসে আছে স্বচ্ছ পানি।

একই অবস্থা তৃতীয় তলার বাইরের ছোট ছাদে (পশ্চিম পার্শ্বে)। বিভিন্ন তলার ব্যবহৃত হাত-মুখ ধোয়ার পানি গড়িয়ে এসে জমা হচ্ছে সেখানে। সে পানি ছাদে জমে শেওলা পড়েছে সেখানে। এমনকি ছাদে পানি জমে থাকার পর বাকি পানি সে স্থানের দেয়াল গড়িয়ে নিচের বাগানে গিয়েও পড়ছে।

ভবনটির ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত খাবার হোটেলেও মিলছে একই চিত্র। হোটেলটির হাত-মুখ ধোয়ার বেসিনের নিচের একটি অংশে পানি গড়িয়ে এবং হাত-মুখ ধোয়ার সময় ছড়িয়ে পড়ে জমে আছে স্বচ্ছ পানি। একই অবস্থা হোটেলের পাশে থাকা ছোট ছাদের। সেখানেও উপরের বিভিন্ন তলা থেকে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে ব্যবহৃত পানি। আবার ছাদে থাকা ট্যাংকে পানি ভরার সময় কখনও কখনও ট্যাংক গড়িয়ে অতিরিক্ত পানি ছাদের উপর পড়ে থাকে। এমন প্রায় দশটি স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে নিয়মানুযায়ী ডেঙ্গুর মশা জন্ম নেওয়ার শঙ্কা আছে। তাই এগুলো প্রতিরোধে অচিরেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা।

জমে থাকা পানিতে কখনও মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর ভবনের হোটেলের পরিচালক রইস উদ্দিন বলেন, ‘গত সপ্তাহ খানেক আগে ধোঁয়া ছিটাইছিল। কিন্তু জমে থাকা পানিতে ওষুধ স্প্রে করার যে নিয়ম সেটা করতে দেখিনি। তবে আমরা দায়িত্ব পালনকারীদেরকে বলবো যাতে এখানেও ওষুধ ছিটানো হয়।’

একই কথা বললেন নিচ তলায় দায়িত্ব পালনকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্য। তিনি বলেন, চার-পাঁচ দিন পরপর মশার ওষুধ ছিটানো হয়। তবে পানির মত যেটা (লার্ভিসাইড) সেটা ছিটাতে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, এসির পানি তো সারাবছরই পড়তে থাকে এখানে। পড়তে পড়তে শেওলাও জমে গেছে। সেটা তো তাকালেই দেখা যায়। আবার কোনো কোনো সময় ট্যাংকির পানিও পড়ে এখানে। এসব পানি জমে থাকে অনেকদিন ধরে। শুকানোর আগেই আবার পড়ে। তাই এ জায়গাটা শুকায় না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, নগর ভবনের বেশ কিছু জায়গায় জমে থাকা পানি থেকেও এডিস মশা জন্মাতে পারে। এমনিতেই তো মশা আছে। কিন্তু যদি এডিস মশা হয় তাহলে তো আমরা যারা অফিস করি এখানে তাদের জন্য শঙ্কা আছে। আর সে শঙ্কার মধ্যে মেয়র নিজেও আছে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল দিলেও তাতে তিনি সাড়া দেন নি।

পরে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা কিছু দিন পর পর এসব স্থান পরিষ্কার করি। ওষুধও ছিটানো হয়। তবুও যদি এমন কোনো স্থান থাকে মশার উৎপত্তিস্থল তাহলে সেগুলোতেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments