অভিনয় ভেবে মঞ্চে কৌতুকাভিনেতার মৃত্যু দেখল দর্শকরা!

মঞ্জুনাথ নায়ডু। বয়স মাত্র ৩৬। শুক্রবার লোক হাসাতে হাসাতে মঞ্চে উদ্বেগে ভুগছেন বলেও জানান তিনি। একপর্যায়ে অভিনয় করতে করতেই পাশে রাখা একটা বেঞ্চে হঠাৎ করে বসে পড়েন।

বসার পরে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মঞ্চেই লুটিয়ে পড়েন মঞ্জুনাথ। যদিও তখনো দর্শকরা ভাবছিলেন, সেটাও শিল্পীর কৌতুকেরই অংশ। কিন্তু এরই মধ্যেই নিথর হয়ে যায় মঞ্জুনাথের দেহ।

আনন্দবাজার জানায়, এভাবে গত শুক্রবার দুবাইয়ের একটি হোটেলে মারা যান ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৌতুকাভিনেতা মঞ্জুনাথ নায়ডু।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্বেগের কথা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে যান মঞ্জুনাথ। কেউ তখনো বিষয়টি বোঝেননি। ভেবেছিলেন এটাও অভিনয়ের অংশ। তিন মিনিট ও ভাবেই মঞ্চে পড়েছিলেন তিনি।

ততক্ষণে বোঝা গেল কিছু একটা ঘটে গেছে। প্যারামেডিকেরা এসেও কিছু করতে পারেননি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মঞ্জুনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঞ্জুনাথের আবু ধাবিতে জন্ম। পরে চলে আসেন দুবাই। তার বন্ধু এবং সহ-কৌতুকশিল্পী মিকদাদ দোহাদওয়ালা বলেছেন, “সে দিনের অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্বে ছিল ওর কৌতুক। মঞ্চে উঠে গল্প বলে রোজকার মতোই লোক হাসাচ্ছিল। বাবা আর পরিবারের কথাও বলছিল। এর পরেই বলল ও উদ্বেগে ভুগছে ইদানীং। এই গল্প শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ!’’

মিকদাদ জানান, মঞ্জুনাথের বাবা-মা মারা গেছেন। এক ভাই আছে। এছাড়া কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই। কৌতুক জগতের লোকজনই ছিল ওর পরিবার। পাঁচ বছর ধরে কৌতুকাভিনয় করছিল সে।

ঠিক এমনটাই ঘটেছিল ব্রিটিশ কৌতুকশিল্পী ইয়ান কগনিটোর ক্ষেত্রে। ষাটোর্ধ্ব এই শিল্পী গত ১৪ এপ্রিল মঞ্চে অভিনয় করতে করতেই মারা যান। তার মৃত্যুর সময়ও দর্শকরা ভেবেছিলেন, মজা করছেন কগনিটো।

Comments

comments