সুনামগঞ্জে লাখো মানুষ পানিবন্দী

সুনামগঞ্জে টানা ৬ দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ টি উপজেলার প্রায় ১৩ হাজার ঘর-বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। তবে বে-সরকারি হিসেবে আরো অধিক বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করেছে বলে জানান বানবাসী মানুষ। বন্যার কারনে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের জন্য ৩ লক্ষ টাকা, ৩ শ মেট্রিকটন চাল ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জেলার ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সরকারি ভাবে ১০টি আশ্রয় কেন্দ্র সহ সকল স্কুলগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর-ধারারগাঁও সড়কে ভেঙে যাওয়ার কারণে শহরের সঙ্গে সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, কুরবান নগর, রঙ্গারচর ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিববার বিকেল পর্যন্ত ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলা শহরের আশপাশ এলাকা ছাড়াও বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলার বেশি ভাগ সড়ক পানিতে ডুবে গিয়ে জেলা শহরের সাথে উপজেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নীচু এলাকার ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

২৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারন ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। গৌরারং ইউনিয়নের দামপাড়া, ডুলপশি, শাফেলা সহ আশ পাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের ঘরে ও উঠানে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লোকজন। মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন রুমা বলেন, উপজেলার ১০ টি স্কুলে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গৌরারং ইউনিয়নের বন্যার্তদের জন্য আড়াই টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ জানান, তাহিরপুর উপজেলা ৭ ইউনিয়নেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ প্রায় ২৪ শ’ ঘরবাড়ি আংশিক-সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত কয়েকে দিনে প্রায় ৫’শ প্যাকেট শুকনা খাবার ত্রাণ হিসেবে বিতরণ অব্যহত আছে। ৩৯ টন চালের মধ্যে ১৬ টন চাল তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে বিতরণ করেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সব চাল বিতরণ চলমান রয়েছে। বন্যর্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের জন্য শেল্টার হিসেবে উচু স্কুলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ক’টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ চলমান রয়েছে। তাছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

Comments

comments