ঋণের জালে অভিনেতা ফারুক!

চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুক, যিনি চলচ্চিত্রের মিয়া ভাই খ্যাতি পেয়েছেন সর্বস্তরের মানুষের কাছে। তার নামের আগে এখন যোগ হয়েছে আরো একটি পদবী। তিনি এখন দর্শকদের প্রিয় অভিনেতা থেকে হয়েছেন সাধারণ জনগণের নেতা। হয়েছেন একজন সংসদ সদস্য। গেল নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি এই অভিনেতা সম্পর্কে একটি অজানা তথ্য সামনে এসেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রচার হয়েছে। তিনি নাকি বিশাল অঙ্কের ব্যাংক ঋণের জালে ফেঁসে আছেন।

৫ হাজার ৫০০ শত ৩৩ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে এই অভিনেতার কাঁধে। কিন্তু এতো টাকা কিভাবে তিনি ঋণী হলেন? ইতোমধ্যেই এমন প্রশ্নের জন্ম হয়েছে তার ভক্ত-দর্শক সহ সর্ব সাধারণের মনেও। বিষয়টি নিয়ে ফারুক মুখও খুলেছেন গণমাধ্যমে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি নিজেও জানেন না কেনো, কিভাবে এতো টাকার ঋণ তার ঘাড়ে পড়লো। তবে হ্যাঁ, বিএনপি জামাত সরকারের সময় তিনি একটি টেক্সটাইল মিল করার জন্য ব্যাংক ঋণ চেয়েছিলেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আজ বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে ফারুকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু কিছুক্ষন চুপ থেকে কোনো কথা না বলেই লাইটি কেটে দেন। এরপর আবারো তাকে মোবাইলে কয়েক বার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

তবে সম্প্রতি ফারুক একটি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার একটি টেক্সটাইল মিল আছে। যেটা তিনি তার জীবনের সমোস্ত রক্ত ঘামানো টাকা দিয়ে বানিয়েছেন। অভিযোগের সুরে ফারুক জানিয়েছেন তৎকালীন সময়ে যারা ব্যাংকের বড় বড় চেয়ারে বসে ছিলেন তারা সবাই চার দলীয় জোট এবং জামাতের লোক ছিলেন। তারা ফারুককে দেখে হাসতেন এবং বলতেন, এই যে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধা নায়ক এসেছেন।

গণমাধ্যমে ফারুক জানিয়েছেন, পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য তিনি কিছু করতে চেয়েছিলেন। কারণ তার জমি ছিল। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে তখন প্রায় দুই বছর ঘুরিয়েছে। এরপর চলে আসে ২১ শে আগষ্ট। ব্যাংক কর্মকর্তারা তখন মোড় ঘুরিয়ে দিলো। তারা (ব্যাংক কর্মকর্তা) পুরো জমিতে বিল্ডিং করতে বলেন ফারুককে। এরপর যেতে বলেন তাদের কাছে। কিন্তু তিনি তখন এতো টাকা কোথায় পাবেন? লাগবে ৫ হাজার স্কোয়ার ফিট। কিন্তু তাকে বলেছে লাগবে ৪৫ হাজার স্কোয়ার ফিট। এরপর তারা (ব্যাংক কর্মকর্তা) বললেন পুরোটা ফারুকের অর্থ দিয়েই শুরু করতে হবে। নইলে পুরো লোনের বিষয়টি ক্যান্সেল করে দেবে। সেখান থেকে যুদ্ধ করতে করতে আরো দুই বছর পার হয়ে যায়।

এরপর ফারুক ঘুরতে ঘুরতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বললেন, এলসি করে দিতে। ব্যাংক কর্মকর্তারা তখন বললেন টাকা জমা দেন। ফারুক তখন টাকা জমা দিয়েও এলসি পেলেন না। সেটা ২০০৬ সালের কথা। অনেক কষ্টে তিনি মেশিন আনলেন। এরপর আবারো ব্যাংকে গিয়ে ফারুক বললেন, তাকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিতে। তখন তাকে মাত্র ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা দেওয়া হলো ব্যাংক থেকে। যেটা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। যেখানে দেওয়ার কথা ছিল ১০ কোটি টাকা। এরপর অনেকটা সময় পার হলো।

এদিকে ফারুখ দাবি করেছেন, ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কারো কারো নীল নকশায় ব্যাংক তাকে চিঠি দিয়ে জানায় তিনি নাকি ৫ হাজার ৫০০ শত ৩৩ কোটি টাকা ঋণী!

Comments

comments