স্কুলে নেই জানালা ও দরজা, চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

কয়রা উপজেলার মধ্যবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের মধ্যবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি একটি পাকা ভবনের ওপরে টিনশেড, অপরটি টিনশেড ও টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি।

জরাজীর্ণ এ দুটি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। কক্ষগুলোর দরজা-জানালা নেই। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৫ জন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮০ জন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর জানালেন, কক্ষ সংকটের কারণে তিন শিফটে ক্লাস নেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। অফিসকক্ষ না থাকায় স্কুলের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ রাখতে সমস্যা হয়। পাকা ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও কাজ হয়নি।

শুধু এই বিদ্যালয়টিই নয়; খুলনা জেলা ও মহানগরীর এক হাজার ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩০টি বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ। এ নিয়ে দুর্ভোগের অন্ত নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এর ফলে অনেক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সদরের ২৯টি, কয়রা উপজেলার ২৯টি, ডুমুরিয়ার ৫৭টি, তেরখাদার ২৫টি, দাকোপের ১২টি, দিঘলিয়ার ৪টি, পাইকগাছার ২৩টি, ফুলতলার ১৮টি, বটিয়াঘাটার ২০টি ও রূপসা উপজেলার ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার লোকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কক্ষের ভবনটির দেয়ালের পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে গেছে। সে ইটও ক্ষয়ে যাচ্ছে। পিলার ও দেয়ালের একাধিক স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ২০০০ সালে নির্মিত এ ভবনটি উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা এ ভবনেই পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, তার বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৩ জন। কক্ষ দরকার সাতটি। কিন্তু আছে মাত্র চারটি। উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও অন্য কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর এই উপজেলায় ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। যে কোনো সময় প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

কয়রা উপজেলার উত্তরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম জানান, ১৯৯৮ সালে নির্মিত চার কক্ষের আধাপাকা ভবনটি ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিকল্প উপায় না থাকায় সেখানেই কোনো রকমে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্ষার সময় সম্ভব হয় না। কারণ টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। বিদ্যালয় মাঠটি অনেক নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে থাকে। সে কারণে বর্ষাকালে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা বন্ধ থাকে। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক আটজন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৩ জন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম সিরাজুদ্দোহা বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে গত ২৮ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়; কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

Comments

comments