মুরসির শাহাদাৎ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে: নূরুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, মিসরের মজলুম জননেতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রথম বৈধ প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ মুরসি। যাকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ৬৭ বছর বয়সী বর্ষীয়ান এই নেতা দেশটির আদালতের এজলাসেই অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করেন।

আমরা মনে করি এটা কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বরং তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে শহীদ করা হয়েছে। ফলে তাঁর মৃত্যুর এ ঘটনায় আমরা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। ইসলামী আন্দোলনের অবিসংবাদিত এই নেতা তার উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের আইকন বা মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার শাহাদাৎ বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ মুহাম্মাদ মুরসির শাহাদাৎ কবুলিয়াতের জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় দোয়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহঃ সেক্রেটারী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামছুর রহমান, কামাল হোসাইন, মু. আব্দুল জব্বার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য আশরাফুল আলম ইমন, শাহীন আহমদ খান, আব্দুস সাত্তার সুমন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মিসরের ইতিহাসে প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মুহাম্মাদ মুরসি। কিন্তু ২০১৩ সালে ইহুদিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ইন্ধনে মিসরীয় সেনাবাহিনী তাকে এক রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে। মুরসির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ এবং তাকে সহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে প্রহসনমূলক বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

তিনি মুরসির ছয় বছরের বন্দিজীবনে মাত্র তিনবার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের বিষয়ে উল্লেখ করে আরও বলেন, তার এ মৃত্যুর জন্য সরকারের উপেক্ষা ও অমানবিক আচরণই মূলত দায়ী।মিশরীয় প্রশাসন তাকে দীর্ঘ সময় ধরে একাকী বন্দী রেখে, পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান না করে এবং পরিবারের লোকজন ও আইনজীবীদের দেখা করতে না দিয়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য মতে মিশরে কারাগারজুড়ে সরকারের দ্বারা ব্যাপক হারে বন্দীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ব্রিটিশ রাজনীতিক ও আইনজীবীদের একটি প্যানেলও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি অবিলম্বে এ সকল অন্যায় ও জুলুম বন্ধ করে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে মিশরীয় প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, মুরসি সরকার ইসলামের পুনর্জাগরণ ঘটিয়ে মাত্র ১ বছরে মিশরের বুকে ইসলামকে একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন যা ইহুদিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্ষুশুল হয়েছিল। এই অপশক্তি শুধুমাত্র মুরসি ও ইখওয়ানকে নয়, জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলামের পুনর্জাগরনকে স্তব্ধ করে দিতে চাই। এরই ধারাবাহিকতায় এই ইসলাম বিরোধী শক্তি মিশরের মতই বাংলাদেশের বুকেও মাওলানা নিজামী সহ শীর্ষ ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে জুডিশিয়াল কিলিং এর মাধ্যমে হত্যা করেছে। অথচ জুলুম নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যায়না বরং তা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে চারিদিকে আরও ছড়িয়ে পড়ে। মুহাম্মদ মুরসির শাহাদাৎ ও ইখওয়ানের এই ত্যাগ ও কুরবানী বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এবং কর্মীদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ মুরসির শাহাদৎ কবুলিয়াতের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে নুরুল ইসলাম বুলবুল বিশেষ দোআ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এছাড়াও আজকে খিলগাঁও পুর্ব, মতিঝিল, খিলগাঁও পশ্চিম, যাত্রবাড়ি পশ্চিম, শ্যামপুর, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ দক্ষিণ, বংশাল, ডেমরা উত্তর সহ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন থানায় ড. মুহাম্মদ মুরসির শাহাদৎ কবুলিয়াতের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

Comments

comments