ইসলামী ব্যাংক সংকটের নেপথ্যে সামীম আফজাল

স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মের কারনে বিভিন্ন সময় সমালোচনায় এসেছেন ইফার বিতর্কিত ডিজি সামীম আফজাল। ইসলামী ব্যাংক সংকটের ও মূল হোতা এই বিতর্কিত ডিজি।

ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে সরকার রাতের আধারে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মুস্তফা আনোয়ারকে সরিয়ে দিয়ে আরাস্ত খানকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়। কিন্তু মেয়াদ পার করতে পারলেন না আরাস্ত খানও। ২০১৮ সালের ১৮ই এপ্রিল তাকেও সরিয়ে দিয়ে নতুন চেয়ারম্যান করা হয় ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ড. নাজমুল হাসানকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের এসব রদবদলের পেছনে নেপথ্যে ভুমিকা পালন করছিলেন একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম আফজাল। তার পরামর্শেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা যায়, কয়েক বছর ধরেই সামীম আফজাল প্রধানমন্ত্রীকে ভুলভাল বুঝানোর চেষ্টা করে আসছে যে, ইসলামী ব্যাংক থেকে মোটা অংকের টাকা জামায়াত-শিবিরের ফান্ডে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে জামায়াত-শিবিরকে দুর্বল করতে হলে ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

এরপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি রাতের আধারে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মুস্তফা আনোয়ার ও এমপি আব্দুল মান্নানকে সরিয়ে দিয়ে আরাস্ত খানকে চেয়ারম্যান ও আব্দুল হামিদ মিয়াকে এমডি করা হয়। আর সামীম আফজালকে দেয়া হয় ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ।

এদিকে, নতুন পর্ষদ এসে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দ সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা হয় যে ইসলামী ব্যাংকের টাকা আসলেই জামায়াতের ফান্ডে যায় কি না। কিন্তু একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সরকারকে জানানো হয় যে, ব্যাংকের কোনো টাকা জামায়াত-শিবিরের ফান্ডে যায় না। আর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন তারা জামায়াত-শিবিরকে সমর্থন করলেও তারা সৎ মানুষ। এবং ব্যাংকের কাজে তারা খুব কর্মঠ ও যোগ্য।

গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পরই ওই সময় চেয়ারম্যান আরাস্তু খান একাধিকবার বলেছেন যে, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মতো এত সৎ মানুষ আমি জীবনেও দেখিনি। তারা নামাজী, কর্মঠ ও যোগ্য। এরপর থেকে সরকারও এনিয়ে আর মাথা ঘামায়নি।

কিন্তু, এসব প্রতিবেদন মেনে নিতে পারেনি সামীম আফজাল। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আবার বললেন ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে জামায়াতের লোক আছে। প্রধানমন্ত্রী তার কাছে প্রমাণ চাইলে কে কখন জামায়াতের প্রোগ্রামে গিয়েছিল সেই তথ্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন।

অপরদিকে, ইসলামী ব্যাংকের বড় শেয়ার হোল্ডার হলো এস আলম গ্রুপ। এস আলম কর্তৃপক্ষ শামীম আফজালকে বললো- আর পরিবর্তনের দরকার নেই। ব্যাংকটা ভাল চলা দরকার। এখন যারা আছেন তারা ব্যাংকটিকে ভাল চালাচ্ছেন। কিন্তু, সামীম আফজাল বললেন আবার তদন্ত করতে হবে। জামায়াতের সঙ্গে অনেকের সংশ্লিষ্টতা আছে। তাদেরকে বের করে দিতে হবে। কিছু দিন আগে হঠাৎ করেই ৫ জন এমডিকে বাদ দেয়ার পেছনেও শামীম আফজালের হাত রয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এসব নিয়ে এখন এস আলম গ্রুপ সামীম আফজাল মুখোমুখি অবস্থানে। শামীম আফজালের কারণে ইসলামী ব্যাংক আরও বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছে এস আলম গ্রুপ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামীম আফজাল যেখানেই যায় সেখানে নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। তিনি ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের কোনো কাজ না বুঝলেও ঝামেলা বাধাতে ওস্তাদ। কাজ না করে শুধু ঝামেলা বাধানোর কারণে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনে তাকে প্রথমে যে পদে নিয়োগ দিয়েছিল। পরে সেই পদ থেকে সরিয়ে নিচের পদে দেয়া হয়। তারপর তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, ব্যাংকিং ব্যাবস্থাপনা বিষয়ে তার মোটেই ধারণা নেই। তিনি প্রতিদিন ব্যাংকের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে গিয়ে ঘুরে ঘুরে খুঁজে বেড়াতেন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে কারা জড়িত আছেন।

এরপর কোন কারন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে ইসলামী ফাউন্ডেশনে আবার বহাল হন। সেখানে এসও বায়তুল মোকাররমের পিলার–কাণ্ড নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে নিজের পদ আবারও হারাতে বসেছেন। যারা তাকে মাঠে নামিয়েছিল নিজের শার্ত হাসিল করতে সেই হাসিনাই এখন তাকে ‘ছোড়ে’ ফেলে দিয়েছে।

Comments

comments