স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই

কার্ডিফ থেকে খুব একটা দূরে নয় ব্রিস্টল। মাত্র ১ ঘণ্টায় বাসে চলে আসা যায়। আঁকা বাঁকা পাহাড়ি রাস্তার মধ্য দিয়ে কালো পিচের পথ চলে গেছে এই শহরের বুক চিড়ে। চার পাশে লাল ইটের ছাদ দেয়া বাড়িগুলো বলে দিচ্ছে এটি ওয়েলস নয়, শহরটি ইংল্যান্ডের অংশ। হয়তো সেই কারণেই ইংলিশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীনতম স্টেডিয়ামটি এখানেই দাঁড়িয়ে আছে ইট পাথরের দেয়ালের মাঝে। কিংবদন্তির ইংলিশ ক্রিকেটার ডব্লিউ জি গ্রেস এ মাঠটি ১৮৮৯ সালে কিনেছিলেন। তা না হলে এখানে হয়তো রাগবি বা ফুটবলই খেলা হতো! হ্যা, ব্রিস্টল কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের কথাই বলছি। যা গ্লুস্টারশায়ার কাউন্টি কর্তৃপক্ষ চিরকালের জন্য দখল করে নিয়েছে।

আজ সেইখানেই ৯ বছর পর টাইগাররা মাঠে নামবে আরো একটি জয়ের সন্ধানে। প্রাচীন এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ক্রিকেট যাত্রার একটি মাইলফলক তৈরি হয়েছি। ২০১০-এ ব্রিস্টল মাঠে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে আজ সেখানেই টাইগারদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।

বলার অপেক্ষা রাখেনা এই ম্যাচ থেকেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনালে উঠার আসল মিশন। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে হারে ক্ষচ্যুত হয় টাইগাররা। পরে তারা হার দেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও। দুটি ম্যাচেই জয়ের প্রত্যাশায় ছিল টাইগার ভক্তরা। আর সেই আশা দেখিয়েছে মাশরাফির দল নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ অফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করায়। বলার অপেক্ষা রাখেনা আজ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে সেমির লক্ষ্যে এগিয়ে যাবার পথ একটু সহজ হবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে এখন যে সেমিফাইনালে যাওয়া খুব কঠিন তাও না। আমরা জানতাম প্রথম তিনটি ম্যাচ বেশ কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ছিল। তাই এই ম্যাচ থেকেই লক্ষ্য স্থির করেছিলাম জয় দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। তার আগে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি। যদি পরের দুটি ম্যাচের একটিতে জিতে যেতাম তাহলে কঠিনভাবে ভাবতে হতনা। যাই হোক আমাদের কাজ এখন শুধু ভালো খেলা। অন্য কোন চিন্তা মাথায় রাখছিনা। আগে হার, এমনকি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় কোনটাই মাথায় রাখতে চাইনা। কাল যে ম্যাচ হবে সেটিই এখন আমাদের লক্ষ্য। সেখানে সেরাটা দিতে পারলে আমাদের যে লক্ষ্য আছে সেখানে এগিয়ে যাব অনেকটাই।’

ব্রিস্টলের মাঠ যেমন প্রাচীন তেমনি এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক বেশ পুরানো। ১৯৮৩তে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রিস্টল ভেন্যুর। বলার অপেক্ষা রাখেনা মাঠ সম্পর্কে বেশ ভালই ধারণা আছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দলের । অন্যদিকে এই মাঠে ২০১০ এর সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল। সেবার ২৩৭ রান করেছিল ৭ ইউকেটে। ৭৬ রানের একটি ইনিংস এসেছিল ইমরুল কায়েসের ব্যাট থেকে। বলার অপেক্ষা রাখেনা এখানে সেই জয় টাইগারদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

এছাড়াও র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের নিচে। কিন্তু মাশরাফি কোনভাবেই প্রতিপক্ষকে হিসেবের বাইরে রাখতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দেখেন দুটি বিশ্বকাপে আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি। তাতে কি হয়েছে? আমরা কিন্তু এবার বেশ বাজেভাবে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেছি। তাই কালকের (আজ) ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি। এখানে অনেক কিছুই হতে পারে। তাই আমাদের কাজ একটাই ভালোভাবে শুরু ও শেষ করা।’

১৭ হাজার ৫০০ ধারণক্ষমতার মাঠে বাংলাদেশের দর্শকরা দারুণ প্রত্যাশা নিয়ে আসবেন আজ। শুধু ব্রিস্টলই নয়, গোটা ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্তরা ছুটে আসবে এখানে। তারাও আশায় আছেন। মাশরাফি বলেন, ‘আসলে দুটি ম্যাচে হেরে যাওয়াতে একটু খারাপ লাগছে। কিন্তু এই ধরনের টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত আশা থাকে। তাই এখন আমাদের একটাই কাজ, ভালো খেলে সেরাটা দেয়া। এছাড়াও আর ভাবনা নেই।’

প্রথম তিন ম্যাচে অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে আজ একাদশে অন্তত একটি পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যতটা জানা গেছে আজ মোহাম্মদ মিঠুনের পরিবর্তে সাব্বির রহমান অথবা লিটন দাস খেলতে পারেন। আর রুবেল হোসেনকে ফিরাতে চাইলে দল থেকে বাদ দিতে হতে পারে দারুণ খেলতে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজকে। দলে পরিবর্তন নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। টিম ম্যানেজম্যান্ট এখনো কে কে দলে আসবে তা নিয়ে ভাবেনি। যদি প্রয়োজন হয় পরিবর্তন আসতে পারে।

Comments

comments