প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

আজ ৩০শে মে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। তখন তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৫ বছর।

শোকাবহ এই দিনটি স্মরণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ বাণী দিয়েছেন। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ জিয়ার অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ। চক্রান্তকারীরা যতই চেষ্টা করুক কোন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ককে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি বিস্মৃত হন না। বরং নিজ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরজাগরুক হয়ে অবস্থান করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার দেশে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও নতুন কায়দায় পুরানো বাকশালকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। এমতাবস্থায় হারানো গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার আপসহীন নেত্রী কারাবন্দি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবারও তাঁর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস যুগিয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য হানাদারদের বিরুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে তার এ অতুলনীয় ভূমিকার কথা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভূষিত হন বীর উত্তম খেতাবে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত এক পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্তি পায় ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে। আর এই বিপ্লবের প্রাণপুরুষ ছিলেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশেল ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা এই রাষ্ট্রনায়কের সততা, নিষ্ঠা, গভীর দেশপ্রেম, কর্মমুখরতা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণাবলি এ দেশের গণমানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। নানা কারণে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে স্থান করে নিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তার যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল অন্য কোনো রাষ্ট্রনায়কের ভাগ্যে তা জোটেনি। মাত্র ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

প্রেসিডেন্ট জিয়া খালকাটা কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব, শিল্প উন্নয়ন ও যুগোপযোগী ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্যদিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত রচনা করেন। জাতীয় মহিলা সংস্থা প্রতিষ্ঠাসহ নারী সমাজের উন্নয়ন ও শিশুদের বিকাশে তার আগ্রহ জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। তার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিয়াউর রহমান একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃত। মুসলিম বিশ্বে, জোটনিরপেক্ষ বলয়ে ও পাশ্চাত্যে তেজোদ্দীপ্ত ও প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ভূমিকা পালনে, সফল স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে এক মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। তার অন্যতম উপহার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের পতাকাবাহী রাজনৈতিক দল ‘বিএনপি’। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া হাল ধরেন এই দলের। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে তিনবার।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ছিল ‘কমল’। বাবা রসায়ণবিদ মনসুরুর রহমান ও মা গৃহিনী জাহানারা খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে তিনি। বাবার চাকরির সুবাদে কলকাতা হেয়ার স্কুল ও দেশ বিভাগের পর করাচিতে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে কমিশন পান ১৯৫৫ সালে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সাথে একটি কোম্পানির অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার কোম্পানি যুদ্ধে সর্বোচ্চ খেতাব লাভ করে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য তিনি নিজেও খেতাব এবং একটি পিস্তল উপহার পান। ১৯৬৬ সালে তিনি কাবুলে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে ইন্সপেক্টর হন এবং একই বছর শেষদিকে কোয়েটা স্টাফ কলেজে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের অক্টোবরে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্ব দিয়ে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রামে।

কর্মসূচি:

জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিএনপিসহ অঙ্গ দলগুলো। গতকাল এ উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও নানা কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মাজার জিয়ারত, কুরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, তবারক বিতরণ ইত্যাদি। এছাড়া কয়েকটি জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইভাবে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করা হবে। বেলা ১১টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শেরে বাংলা নগরস্থ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজারে কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৯টায় জিয়ার মাজার জেয়ারত, দোয়া ও শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করবে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব। এছাড়া সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ড্যাব এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ঔষধ বিতরণ করা হবে।

Comments

comments