যুবলীগ নেতা গ্রেফতার, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

গাজীপুরে যুবলীগ নেতা জুয়েল মণ্ডল অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেছে।

এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন বাড়ির মালিকরা হয়রাণীর হাত থেকে নিস্তার পেয়েছেন।

বুধবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালত জুয়েল মন্ডলের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সে মেট্রোপলিটন গাছা থানা যুবগলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

বুধবার সকালে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নগরীর ৩৭নং ওয়ার্ডের চান্দরা এলাকার মৃত আবদুল হাই চেয়ারম্যানের ছেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রাশেদুজ্জামান জুয়েল মণ্ডল। যুবলীগ পরিচয়ে স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী, পুলিশের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব চালিয়েছে।

গাছা, চান্দরা, কুনিয়া পাছরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের আতঙ্ক ছিল জুয়েল মণ্ডল। বিশেষ করে যারা বাহিরের জেলা থেকে ওই সব এলাকায় বাড়ির ঘর নির্মাণ করত তাদের উপরে অত্যারের মাত্রাটা ছিল বেশি। ঘরবাড়ি নির্মাণ, ময়লা, সিমেন্ট, ওয়ার্কসপের কাজ চরাদামে তার কাছ থেকে না নিলে বাড়ি ঘর বেদখল হয়ে যেত। এমনকি বাড়িতে সাম্বারসিবল পাম্প বসাতে গেলেও তাকে চাঁদা দিতে হতো।

এলাকার অসহায় লোকদের ধরে এনে মারধোর করা, মাদক বিক্রি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মেও তার হাত রয়েছে। নানা অপকর্মে জুয়েল মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮-১০টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতো না। কিন্তু গত সোমবার ৫ রাউন্ড গুলি ও দুটি বিদেশি পিস্তলসহ তার বাড়ি থেকে আটক করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। তার এ গ্রেফতারের খবরে স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, জুয়েল মণ্ডলের নামে জমি দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ ছাড়াও বিভিন্ন থানায় প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জুয়েল মণ্ডলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

অপর দিকে জুয়েল মণ্ডলের শ্বশুর ফজলুল হক চৌধুরী দাবি করেন জুয়েল মণ্ডল এসব কাজের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাছা থানার এসআই হাফিজুর রহমান জানান, জুয়েল মণ্ডলকে মঙ্গলবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে বুধবার এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Comments

comments