যে কারণে বন্ধ করা হলো বাংলাদেশের দুই নিউজ পোর্টাল!

সম্প্রতি বাংলাদেশে আবারও অবরুদ্ধ করো হয়েছে দুটি জনপ্রিয় সংবাদ ওয়েবসাইট। ক্ষমসতাসীন সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা ও বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায়  বন্ধ করা হয়েছে এই পোর্টাল দুটি।

গত ১৯ মে পর্যন্ত শুধুমাত্র পরিবর্তন ডট কম এ প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু গত ২২মে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই সরকার কর্তৃক বাংলা রিপোর্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরিবর্তন ডট কম এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল জাজিরার সাক্ষাতকারে বলেন, কেন ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে গেছে সে সম্পর্কে তিনি এখনো অন্ধকারে আছেন।

তিনি বলেন, আমাদের কোন কারণ দেওয়া হয়নি। আমরা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি।

সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ই মে দাড়ি রাখা, টাখনুর উপরে কাপড় পরাসহ জঙ্গি সনাক্তে ২৩টি লক্ষণ দেখিয়ে একটি বিজ্ঞাপন জাতীয় দৈনিকে ফলাও ভাবে প্রচার করে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনের আহ্বায়ক অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ১৬ মে তিনি বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তখন পীযূষের এই মন্তব্যে পরিবর্তন ডট কম‘পীযূষরা দেননি, বিজ্ঞাপনটা দিলো কে?’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে এরপর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় জনপ্রিয় এই ওয়েব সাইটটি। এছাড়া একই ঘটনায় নতুন দিগন্ত নামে একটি ওয়েব সাইট হ্যাক করার প্রচেষ্টা চালায় সরকার ।

এদিকে ২২ই মে বন্ধ করে দেওয়া হয় বাংলা ডট রিপোর্ট ওয়েব সাইটটি। ঐদিন ‘গ্লানি নিয়ে বিপিও সামিট থেকে ফিরলেন প্রতিবন্ধী কামরুল’ শিরোনামে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও প্রতিবন্ধী কমরুলের কিছু কথোপকথন একটি প্রতিবেদন পকাশ করে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সাংবাদিককে ফোন করে সংবাদটি সরিয়ে ফেলার জন্য হুমকি দেয় মোস্তফা জব্বার। এরপর ব্যর্থ হয়ে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়।

আলজাজিরার সাক্ষাতকারে বাংলা রিপোর্টার সম্পাদক রফিকুল রঞ্জু বলেন, আমাদের প্রতিবেদক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারপর ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সরানোর জন্য হুমকি দেয় মন্ত্রী। আমরা সেই সংবাদটি সরিয়ে না নিলে ওয়েবসাইটের অ্যাক্সেস অবরুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং আমাদের বিশ্বাস যে এটি সেই মন্ত্রীর আদেশে বন্ধ হয়ে করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে প্রধান বিরোধী দলের পোর্টালসহ ৫৪টি নিউজ পোর্টাল এবং ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।

গত মার্চ মাসে আল জাজিরার ওয়েবসাইটে তিনজন ব্যক্তির গুমের সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে সিনিয়র নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকারে পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আল জাজিরার ঐ একই প্রতিবেদনের অনুবাদ প্রচার করায় বন্ধ করে দেয়া হয় নিউজ বিশ্লেষণধর্মী ওয়েবসাইট ‘জবান’।

মন্ত্রীর হুমকি

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও প্রতিবন্ধী কমরুলের কিছু কথোপকথন একটি প্রতিবেদন পকাশ করার পরে বাংলার সাংবাদিককে ফোন দেয় মন্ত্রী। সংবাদের অনুসন্ধানে সাংবাদিক ও মোস্তফা জব্বারের মধ্যে দুটি রেকর্ডকৃত ফোন কথোপকথন পাওয়া গেছে।

প্রথম রেকর্ডকৃত কথোপকথনে, জব্বার প্রতিবেদককে ওয়েবসাইট থেকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন অপসারণের জন্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যদি এটি করা না হয় তবে “আইনি ব্যবস্থা” গ্রহণের হুমকি দেয়।

দ্বিতীয় রেকর্ডকৃত কথোপকথনে, প্রতিবেদক মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন কেন এই ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জব্বার জবাব দিলেন, আমি যা করতে চেয়েছি তা আমি করেছি। আমার কাছে আর কিছু বলার নেই।

রঞ্জু আলজাজিরার সাক্ষাতকারে আরও বলেন, দেশে আইন আছে এবং যদি সরকার চায় তবে এটি কোনও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে যদি এটি মনে হয় যে এটি কোনও আইনের বিরুদ্ধে যে কোনও খবর প্রকাশ করে। তবে ওয়েবসাইটগুলির এই ধরনের অবরোধগুলি গ্রহণযোগ্য নয়।”

মুসলমানদের বিশ্বাসে ‘জঙ্গিবাদের লক্ষণ’ সম্পর্কে রিপোর্ট

এএফপির সূত্র বলছে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পিছনে অর্থায়ন সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর একটি সরকারী নিরাপত্তা সংস্থা পরিবর্তন ডট কম কে অবরোধ করার আদেশ জারি করে।

ইসলামী বিশ্বাসের কিছু লক্ষণকে জঙ্গিদের লক্ষণ হিসেবে প্রচার করায় ধর্মপ্রান মুসলমানেরা এই বিজ্ঞাপনের নিন্দা জানায়।

এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ১৬ মে তিনি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞাপনটি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

Comments

comments