মুসলিমদের ওপর সহিংসতা : শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান বাণিজ্য স্থগিত

পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বাণিজ্য সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেননা পাকিস্তান থেকে বেশির ভাগ পণ্য আমদানি করে থাকে শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায়ই।

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান আসলাম পাখালি বলেন, পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কায় চাল ও পোশাক রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কমে গেছে আলু রফতানিও। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায়ই মূলত পাকিস্তানি পণ্যগুলো আমদানি ও বিক্রি করে। তারাই পাকিস্তানি রফতানিকারকদের সহযোগী; কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতায় তাদের অনেকেরই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাখালি বলেন, তাদের দোকান, সুপার স্টোর ও গোডাউনে হামলা চালানো হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পণ্যগুলো শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দরে রাখা হয়েছে; কিন্তু আমদানিকারকেরা তা সেখান থেকে নিচ্ছে না। শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলার দুরবস্থার কারণেই এমনটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেশির ভাগ পণ্য, বিশেষ করে সবজি ও ফল বিমানবন্দরে থেকে নষ্ট হচ্ছে। পাকিস্তানি চাল ও পোশাকজাত পণ্যের বড় আমদানিকারকদের একটি শ্রীলঙ্কা; কিন্তু আপাতত সে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

এমতাবস্থায় শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা করেছে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল। তারা শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায়কে সুরক্ষা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গত ইস্টার সানডেতে দেশটির চার চার্চ, তিন হোটেল ও এক বাড়িতে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

পাখালি জানান, এখন পর্যস্ত স্থানীয়দের হামলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের আনুমানিক ৫০ কোটি ডলারের মতো লোকসান হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি রফতানিকারকদের তিন কোটি ডলারের মতো অর্থ পরিশোধ করা বাকি রয়েছে। তিনি আরো জানান, শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে বন্ধই থাকবে বাণিজ্য। এতে চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে পাকিস্তানকে।

Comments

comments