পাটকল শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের দাবির সমর্থনে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরবার স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। ২৩টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ’-এর ব্যানারে সোমবার সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ ছাড়া পাটকল শ্রমিকরা এদিন বিকেলে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছেন।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা, নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ, নাগরিক নেতা আফজাল হোসেন রাজু, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা এস এ রশিদ, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিনা মিজানুর রহমান, সিপিবি মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান, পাট ও পাটশিল্প রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. খালিদ হোসেন, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নুরুল হাসান রুবা, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু, বাসদের জনার্দন দত্ত নান্টু, কহিনুর আক্তার কণা, মনিরুজ্জামান রহিম, কাজী দেলোয়ার হোসেন, মোস্তফা খালিদ খসরু, বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, শ্রমিক নেতা মুরাদ হোসেন, শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান, খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক আ ফ ম মহাসীন, নাগরিক নেতা মনিরুল হক বাচ্চু, সম্মিলিত নগরিক সমাজের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাবু প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের ৩০ হাজার শ্রমিকের ৯ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। ফলে রোজার মাসে তারা দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বক্তারা বলেন, সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে প্রাইভেট সেক্টরে ছেড়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। পরে জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে সোমবার বিকেল ৪টায় ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর ও স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা মিছিল সহকারে নগরীর নতুন রাস্তা মোড়ে গিয়ে খুলনা-যশোর মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে খুলনা-যশোর মহাসড়ক, বিআইডিসি রোড ও নতুন রাস্তা মোড় থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া আলিম ও ইস্টার্ন জুট মিলের শ্রমিকরা আটরা শিল্প এলাকায় এবং জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা রাজঘাট এলাকায় একই কর্মসূচি পালন করেন।

Comments

comments