নির্মাণের দুদিনেই পাকা রাস্তা ফাঁকা!

রাস্তা পাকাকরণের দুই দিনের মধ্যেই কার্পেটের মতো পিচ ঢালাই উঠে যাচ্ছে। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে পাকা রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৪ মে মঙ্গলবার ঢালাই দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামবাসী হাটতে গিয়ে দেখেন জুতার সাথে পিচ ঢালাই রাস্তা কার্পেটের মতো উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয় ঠিকাদার মোঃ সুমন প্রধানীয়া দ্বিমত পোষণ করে বলেন, এলাকার কিছু লোকজন হাত দিয়ে পিচ ঢালাই উঠিয়ে ফেলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাঁদপুর জেলার কচুয়া-কাশিমপুর সড়কের মনপুরা গ্রামের ভেতরে ৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের টেন্ডার হয় ২০১৫ সালে। শুরু থেকেই নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের ইট সামগ্রী (উপকরণ) দিয়ে কাজ করে ঠিকাদার। ঐ ভাবেই রাস্তার কাজ ফেলে রাখে প্রায় দুই বছর। এতে পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।

স্থানীয় অধিবাসী মোহাম্মদ সাকিব বলেন, মন্থর গতির এই কাজে ব্যবহৃত হয় ইট-বালু ও পাথর। এগুলো সবই নিম্নমানের। রাস্তার দু’পাশের রেলিংয়ের ক্ষেত্রে নম্বরের ইট ব্যবহারের বদলে ব্যবহার করা হয় পিকেট, মাটি দিয়ে যা দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, পিচ ঢালাই দেয়ার আগে রাস্তা পাকাকরণে বিটুমিন না দিয়ে পিচ ঢালাই করে ঠিকাদার।

এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ জাকির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলিমা আফরোজ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। স্থানীয় প্রকৌশলীকে সরেজমিনে দেখে কাজ নিম্নমানের হলে বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার মনপুরা গ্রামে ৪ কিলোমিটার সড়কের জন্যে প্রায় তিন কোটি টাকা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই কাঁচা রাস্তা ২০১৯ সালের মে মাসে পাকাকরনের কাজ শুরু হয়।

মনপুরা গ্রামের নতুন নির্মাণাধীন রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে যাওয়ার ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের ঘটনায় কঢ়ুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান শিশির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে দেখেছি। কাজ নিম্নমানের হওয়ায় পুনরায় এ কাজ করার জন্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি।

Comments

comments