আইআইইউসিতে ছাত্রলীগের হামলা: নিরাপত্তা চেয়ে শিক্ষকদের মানববন্ধন

নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবীতে  মানববন্ধন করেছে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম-এর শিক্ষকরা।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারের সামনে এ মানববন্ধন করে। এ মানববন্ধন থেকে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধেরও ঘোষণা দেন তারা।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বিশ্ববদ্যালয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর বিচার ও সুষ্ঠু সমাধান ব্যতীত কোনো শিক্ষক ক্লাস, পরীক্ষা এমনকি কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিবেন না।

গত ৮ মে বুধবার বিকেলে হঠাৎ করেই আই আই ইউ সি’র ইইই ডিপার্টমেন্টে হানা দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যারা ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী পরিচয়ে শিক্ষকদের কাছে পরীক্ষায় ফেল করার কারণ জানতে চান ও তাদের পাশ করিয়ে দেয়ার অনৈতিক দাবী করেন। শিক্ষকরা এ ব্যাপারে বিব্রতবোধ করলে ও তাদের এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের রুম ভাংচুর ও ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানকে তার অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

এ পরিস্থিতিতে ফ্যাকাল্টি ডীন প্রফেসর ড. দেলওয়ার হোসেন শিক্ষকদের সাথে এমন আচরণ থেকে তাদের বিরত থাকতে বললে তারা তাঁর ওপরও চড়াও হয় এবং সন্ধ্যার পর তাঁর বাসভবনে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। শুধু তাই নয় পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদেরকে হুমকি ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কূৎসা রটাতে থাকে।

শিক্ষকদের লাঞ্চিত করা, অনৈতিকভাবে পরীক্ষার পাশ করানোর জন্য শিক্ষকদের হুমকী-ধামকী দেয়া ও ডিপার্টমেন্ট ভাংচুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে ১১ মে শিক্ষকদের এক জরুরী বৈঠকে ইইই ডিপার্টমেন্টের সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আজ ইইই ডিপার্ট্মেন্টের শিক্ষকদের সাথে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে।

মানববন্ধনে প্ল্যাকার্ড ও বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিরাপত্তাসহ নিম্মোক্ত বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবী জানানো হয়, অন্যথায় সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে শিক্ষকরা।

১. ছাত্রলীগের একাংশ কর্তৃক নিজ বিভাগীয় শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে আসতে বাধা, হুমকি এবং ভূঁয়া নিউজ পোর্টালে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা কূৎসা রটানো।

২. ছাত্রলীগের একাংশ কিছু বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষকদের রুমের জানালার কাঁচ, নামফলকসহ ডিপার্টমেন্ট এর আসবাব ভাংচুর।

৩. শিক্ষককে রুমে গিয়ে হেনস্থার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার।

৪. ইইই ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানের সাথে অসদাচরণ ও পরীক্ষার হলে নকলসহ যাবতীয় অনিয়মের প্রসার।

৫. স্টাফ ও অস্থায়ী শিক্ষকদের ডিপার্টমেন্টে না আসার হুমকি প্রদান।

এছাড়াও ইদানিংকালের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের জীবন হুমকির মুখে দাবি করা হয় মানববন্ধন থেকে।

উল্লেখ্য যে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৪০-৫০ জনের একটা গ্রুপ হলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এবং বৈধ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের মাধ্যমে হল থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই একের পর এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের অনৈতিক দাবী না মানায় শিক্ষকরুম ভাংচুর, শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

Comments

comments