মসজিদে শিশুদের সাথে রাসুল সা. এর আচরণ

অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান

শিশুদের সাথে রাসুল সা. মসজদিরে অভ্যন্তরে এবং নামাযরে ভিতরে যে ধরণরে আচরণে করতনে আজকাল ‎‎অনকে মুসলমানকে তার বিপরিথ আচরণ করতে দখো যায়। খুব কষ্ট লাগে যখন কোনো ইমাম সাহেবকেও শিশুদের সাথে রূঢ় আচরণ করতে দখো যায়। আমরা এখানে রাসুল সা. মসজিদে এবং নামাযে কিরূপ আচরন ‎‎করতেন সে ব্যাপারে কয়কেটি হাদীস পশে করছি।

‎১. সাদ্দাদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার রাসুল সা যোহর বা আছরের নমায পড়ার জন্য বাড়ি হতে ‎‎আমাদের কাছে মসজিদে আসলেন। সে সময় হাসান বা হোসাইনের একজনকে কোলে করে নিয়ে ‎এসেছিলেন। তারপর নবী সা. নামায পড়াবার জন্য এগিয়ে গেলেন। তখন শিশুটিকে তাঁর নিজের ‎পায়ের কাছে বসিয়ে ‎রাখলেন। তারপর নামাযের তাকবীরে বাধলেন। তারপর নামায শুরু ‎করলেন। নামাযে তিনি একটি সিজদা বেশ ‎দীর্ঘ করলেন। তিনি বলেন তখন আমি সিজদা থেকে ‎আমার মাথা তুললাম। তখন দেখলাম যে রাসুল সা. ‎সিজদায় রয়েছেন, আর শিশুটি রাসুল সা. এর পিঠের উপর ‎বসে আছে। তারপর আমি আবার আমার সিজদায় ‎ফিরে গেলাম। যখন রাসুল সা. নামায শেষ করলেন ‎তখন লোকারা বললেন হে আল্লাহর রাসুল, আপনি একটি ‎সিজদা খুব বেশি দীর্ঘ করেছেন। যার কারণে ‎আমরা মনে করেছি হয়ত কিছু একটা ঘটেছে। অথবা এ সময় ‎আপনার কাছে অহি এসেছে! তখন রাসুল ‎সা. বললেন, এরকম কিছুই হয় নাই। তবে আমার এ নাতিটা আমাকে ‎তার বাহন (ঘাড়া) ‎বানিয়ে ছিল। তাই আমি দ্রুত করা অপছন্দ করলাম যাতে সে তার ইচ্ছা মতো চড়ে নিতে ‎পারে।’ ‎‎[নসায়ী ও হাকেম। তিনি হাদীসটি সহীহবলে মন্তব্য করেছেন। আল্লামা যাহাবী তার বক্তব্য সমর্থন ‎‎করেছেন।]‎

২. আব্দুল্লাহ ইবন বোরাইদা থেকে তিনি তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন। একবার রাসুল সা. আমাদের ‎উদ্দেশ্যে ‎খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন হাসান ও হোসাইন এগিয়ে আসল। তখন তাদের পরণে দুটি লাল রং ‎এর পোশাক পরা ‎ছিল। তারা আসতে গিয়ে একবার পড়ে যাচ্ছিল আবার উঠতে ছিল। তখন নবী সা. ‎মিম্বর থেকে নেমে গেলেন। ‎নেমে গিয়ে তাদের উভয়কে কোলে তুলে নিয়ে মিম্বরে আরোহন করলেন। ‎তারপর বললেন আল্লাহ ঠিক কথাই ‎বলেছেন,‎‏{أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ} [الأنفال: 28]‏‎ ‘তোমাদের ধন-সম্পদ ‎‎তোমাদের সন্তান-সন্ততি ‎ফিতনা। এ দুই জনকে এ অবস্থায় দেখে আমি ধৈর্য্য ধারণ করতে পারিনি। ‎তারপর আবার খুতবা দেয়া শুরু ‎করলেন। [ আবু দাউদ, খ-১, পৃ-২৯০, হা:১১০৯; নাসির উদ্দিন ‎আলবানী হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।]‎

‎৩. অপর এক হাদীসে আছে রাসুল সা. একবার নামায পড়ছিলেন। যখন তিনি সিজদা করলেন তখন ‎হাসান ‎হোসাইন তাঁর পিঠের উপর চড়ে বসল। যখন কেউ তাদেরকে বরণ করলো তখন রাসুল সা. ‎তাকে ইশারা করে ‎জানালেন যে, তাদেরকে তারা যা করছে তা করতে দাও। অতপর তিনি যখন নামায ‎‎শেষ করলেন তখন তাদের ‎উভয়কে তাঁর কোল তুলে নিলেন।’ [ ইবন হোযাইমা, খ-১, পৃ-৪৪৬, ‎হা:৮৮৮; ড. মোস্তফা আযমী হাদীসটির ‎সনদ সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।]‎

‎৪. আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একবার আমরা রাসুল সা. এর সাথে এশার নামায ‎পড়ছিলাম। যখন ‎রাসুল সা. সিজদা করছিলেন তখন হাসান হোসাইন তাঁর পিঠের উপর উঠে যাচ্ছিল। রাসুল সা. যখন মাথা ‎উঠাচ্ছিলেন তখন তাদের উভয়কে পিছন দিক থেকে আস্তে করে নামিয়ে ‎মাটিতে রাখছিলেন। যখন তিনি ‎আবার সিজদা করছিলেন তখন তারাও আগের মতো পিঠে উঠে ‎যাচ্ছিল। এভাবে রাসুল সা. নামায শেষ ‎করলেন। নামায শেষ করে তাদেরকে কোলে বসালেন। আবু ‎হুরাইরা বলেন তখন আমি উঠে গিয়ে বললাম, হে ‎আল্লাহর রাসুল আমি কি তাদেরকে বাসায় দিয়ে আসব? ‎তখন একটি বিজলী চমকাল। তখন রাসুল সা তাদেরকে ‎বললেন আম্মুর কাছে চলে যাও।’ আবু হুরাইরা ‎বলেন, বিজলীর আলো তারা যতক্ষণ না বাড়িতে প্রবেশ করলো ‎ততক্ষন পর্যন্ত বাকি থাকল।’ [আহমদ, ‎খ-১৬,পৃ-৩৮৬; শায়খ শোয়াইব আল নূউত হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য ‎করেছেন।]‎

‎৫. আবু কাতাদাহ রা. বলেন, আমি একবার রাসুল সা.কে দেখলাম। তখন উমামা বিনতে আস -রাসুল ‎সা. এর ‎কন্যা যাইনাবের মেয়ে- রাসুল সা এর কাঁধের উপর। যখন তিনি সিজদা করছিলেন ‎তখন তাকে রেখে দিচ্ছিলেন। ‎আবার যখন সিজদা থেকে উঠে যাচ্ছিলেন তখন তাকে আবার তুলে ‎নিচ্ছিলেন।’ [মুসলিম, খ-১, পৃ-৩৮৫, ‎হা:৫৪৩]‎

‎৬. আবু কাতাদাহ থেকে অপর এক হাদীসে বর্ণিত। একবার আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। তখন রাসুল ‎সা. ‎উমামা বিনতে আসকে বহন করে নিয়ে আসলেন। উমামার মা হলেন রাসুল সা. ‎এর কন্যা যাইনাব-তখন সে ‎ছিল শিশু। যখন রাসুল সা. নামায শুরু করলেন তখনও সে রাসুল সা. এর ‎কাধের উপর। যখন রুকু করছিলেন ‎তখন তাকে রেখে দিচ্ছিলেন। আবার যখন দাড়াচ্ছিলেন তখন ‎আবার তুলে নিচ্ছিলেন। এভাবে করতে করতে ‎তিনি নামায শেষ করলেন।’ [ নসায়ী, খ-২, পৃ৪৫, ‎হা:৭১১; আবু দাউদ, খ-১, পৃ-২৪১, হা:৯১৮; উভয় গ্রন্থের ‎টিকায় শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী ‎হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।] ‎

৭. আনাস ইবন মালেক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী সা. বলেছেন, আমি কখনো নামায শুরু করি, ‎তখন ‎আমার ইচ্ছা হয় নামায লম্বা ও দীর্ঘ করি। যখন আমি শিশুদের কান্নার শব্দ শুনতে পাই; তখন ‎আমি আমার ‎নামাযকে সংক্ষিপ্ত করি। কারণ আমি জানি শিশুর কান্নার কারণে তার মায়ের কি কষ্ট ‎হয়।’ [বুখারী, খ-১, পৃ-১৪৩, ‎হা:৭০৯] ‎

‎৮. আনাস ইবন মালেক থেকে বর্ণিত। একদিন রাসুল সা. ফজরের নামায সংক্ষিপ্ত করলেন। তখন বলা ‎হলো হে ‎আল্লাহর রাসুল আপনি আজকে নামায কেন সংক্ষিপ্ত করলেন? তখন তিনি বলেন, আমি একটি ‎শিশুর কান্না ‎শুনতে পেয়েছিলাম। তখন আমার মনে হলো তার মা আমাদের সাথে নামায পড়ছে। তখন ‎আমি চাইলাম তার ‎জন্য তার মা-কে মুক্ত করে দিতে।’ [আহমদ, খ-২১, পৃ-২৬২, হা:১৩৭০১]‎

Comments

comments