স্কুল মাঠে হাট বসিয়ে ইজারা ছাড়াই টোল আদায় করছে আ. লীগ নেতা

বগুড়ার ধুনট উপজেলার একটি হাট ইজারা না নিয়েই টোল আদায় করছেন স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা।

হাটের সরকারি জমিতে টাকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের দোকান করতে দিয়েছেন গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী লিটন। এতে হাটের জমি কমে যাওয়ায় তিনি হাত দিয়েছেন সংলগ্ন হাই স্কুলের মাঠে, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওই স্কুলের ছাত্র-শিক্ষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে ‘ম্যানেজ করেই’ অবৈধভাবে হাটের টোল আদায় করছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন এলাকায় দুই একর সরকারি জায়গায় প্রতি বুধবার সাপ্তাহিক হাট ও প্রতিদিন বাজার বসে। ধুনট উপজেলা পরিষদ থেকে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত আলী লিটন ৩১ লাখ টাকায় বাংলা ১৪২৪ সালে (২০১৭ খ্রিস্টাব্দ) হাটটি ইজারা নেন। প্রতি বছর হাটটি ইজারা দেওয়ার নিয়ম হলেও গত দুই বছর তিনি ইজারা ছাড়াই রশিদ দিয়ে খাজনা আদায় করছেন।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, হাটটি ইজারা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী লিটন সরকারি হাটের জায়গায় একশটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘরগুলো অবৈধভাবে তাদের দিয়েছেন।

হাটের জায়গায় দোকান নির্মাণ করায় হাটের পরিসর ছোট হয়ে এসেছে। ফলে স্থানীয় হাই স্কুল মাঠেও হাট বসানো হয়। এ কারণে বুধবার হাটের দিন গোসাইবাড়ী এ এ উচ্চ বিদ্যালয় ও কেও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শুধু সকালেই ক্লাস হয়।

গোসাইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানোর কারণে অনেক ময়লা-আবর্জনা মাঠের মধ্যে পড়ে থাকে। এ কারণে আমরা মাঠে খেলতে পারি না।”

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুর রহমান বাবলুও বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানোর কারণে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসন ও হাট কমিটিকে অবগত করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানান তিনি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী লিটন বলেন, “হাটটি ইজারা নেওয়ার পর হাটের জায়গা কম থাকায় লোকসান হওয়ায় পরবর্তী বছরে স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন বলেন, “আমি নির্বাচিত হওয়ার পর একবার মাসিক সভা হয়েছে। কিন্তু হাট বিষয়ে কোনো সভা হয়নি। তাই এ হাটের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ওই হাট ইজারা দেওয়ার জন্য একাধিবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ দরপত্র না কেনায় হাটটি ধুনট উপজেলা খাস আদায় কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে যে খাজনা আদায় হবে, তা রাজস্ব খাতে জমা হবে।

সাবেক ইজারাদার লিয়াকত আলী লিটন খাজনা আদায় করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তাহলে কে হাটের টোল আদায় করছে, কোন টাকা রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে- এসব প্রশ্নেরও উত্তর দেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

Comments

comments